দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০ সংরক্ষিত আসনের মধ্যে এবার আওয়ামীলীগের জন্য বরাদ্দ আছে ৪৮টি। কিন্তু সেই ৪৮ আসনে সংরক্ষিত নারী এমপি হতে চান ১৫৪৯ জন নারী। সংরক্ষিত নারী এমপি হতে গত তিন দিনে তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। প্রত্যাশীদের কাছে প্রতিটি মনোনয়ন ফরম ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এতে মনোনয়ন বিক্রি বাবদ দলটির আয় মোট ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার থেকে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে।
মনোনয়ন ফরম কিনলেন যেসব অভিনেত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শোবিজ তারকারা। সে দৌড়ে মোট ১৩ জন তারকাশিল্পী আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা হচ্ছেন- অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিন জাহান, অপু বিশ্বাস, নিপুণ আক্তার, শিমলা, শাহনূর, তানভীন সুইটি, মেহের আফরোজ শাওন, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর ও শামিমা তুষ্টি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর আগে জানিয়েছেন, নায়িকাদের মধ্যে দুতিন জনকে এমপি করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, নিপুণ আক্তার, সোহানা সাবা, শাহানূর ও উর্মিলা শ্রাবন্তী কর।
এ সময় অপু বিশ্বাস বলেন, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা থেকে মনোনয়নপত্র কিনলাম আমি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। দোয়া রাখবেন, আমি যেন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেন কাজ করতে পারি। নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে পারা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্য বলে মনে করি। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলাম। বাকিটা মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা বলে সাংবাদিকদের উল্লেখ করেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অভিনেত্রী নিপুন আক্তার। তিনি সঙ্গে রিয়াজকেও নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে।
এদিকে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলা থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন চিত্রনায়িকা সোহানা সাবা। ফরম সংগ্রহ শেষে সোহানা সাবা বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৩ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি শুধু আওয়ামীলীগপন্থিই ছিলেন না, তিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশের কথা ভাবলে আওয়ামী লীগের কথা ভাবতে হবে। এটা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আমরা খুবই ভাগ্যবান যে টানা ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, ইনশাল্লাহ আরও পাঁচ বছরও থাকবে। সেজন্য আমি অবশ্যই চাই আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে। এর আগে রাজনীতি করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সত্যি বলতে আমি খুব সংক্রিয়ভাবে রাজনীতি করিনি। কিন্তু নানা সময় নির্বাচনী প্রচারণায় আমি ছিলাম। আমি কখনো ভাবিনি যে, রাজনীতি করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমিও কাজ করতে চাই বা করতে পারি। অনেকেই আমার থেকে বয়সে ও কাজে সিনিয়র আছেন। তার মানে এই নয় যে, নতুনরা কাজ করবে না বা এগিয়ে যাবে না। নতুনদেরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সব জেনারেশন যদি হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দেশের জন্য ভালো কিছুই হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নতুন জেনারেশন দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াই। আমরা যা দেখি দেশকে ও দেশের মানুষকে সেভাবে দেখতে চাই। সাধারণ মানুষের মতোই আমি হাঁটা-চলা করি। পাঁচ টাকার জিনিস আমি ফুটপাত থেকে কিনি। সেই অভিজ্ঞতাও আমার আছে। আমি সত্যিকারের খেটেখাওয়া মানুষ। আমি মানুষের জন্যই কাজ করবো।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অভিনেত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার শাহনূর। মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তিনি। মনোয়ন ফরম সংগ্রহের পর শাহনূর সাংবাদিকদের বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বিরোধী দলের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলাম। আমি নিজেও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনীত করলে আমি তার কথা অনুসারে কাজ করতে চাই। এছাড়া নারীদের জন্য কাজ করতে চান বলে জানান তিনি।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম তুলেছেন- চিত্রনায়িকা অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিন জাহান, অপু বিশ্বাস, নিপুণ আক্তার, শিমলা, শাহনূর, তানভীন সুইটি, মেহের আফরোজ শাওন, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর ও শামিমা তুষ্টি।