ফ্রান্স সোমবার (১৪ই মার্চ) থেকে কোভিড -১৯ বেশীরভাগ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন থেকে ফেস মাস্ক পরিধান এবং ভ্যাকসিন পাস পর্দশন থেকে মুক্তি পাচ্ছে ফ্রান্সের জনগন।
দেশের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিছু বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী এমনটাই মনেকরেন।
ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ফ্রান্সের আসন্ন রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতার (নির্বাচন) সংবাদের ভিড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ফরাসি সংবাদ মাধ্যম থেকে কভিড-১৯ এর সংবাদ প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে।
প্রকৃতপক্ষে, সান্তে পাবলিক ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কয়েক সপ্তাহের ক্রমাগত পতনের পরে কোভিড সংক্রমণ আবার বেড়ে চলেছে। শুক্রবার নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৭৩ হাজার শীর্ষে পৌঁছেছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৬০ হাজার ছিল। যা ৭ দিনের গড় প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার নতুন কেস সৃষ্টি করে এবং সপ্তাহে ২০% বৃদ্ধি পায়। এখন থেকে শুধুমাত্র গণপরিবহনে, হাসপাতালগুলিতে এবং বয়স্কদের জন্য কেয়ার হোমে ফেস মাস্ক পরিধান কারা বাধ্যতামুলক রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কভিড-১৯ এর বিধি নিষেধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেছিলেন যে, এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পদক্ষেপটি বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সূচকের উপর শর্তাধীন হবে। তবে এখন এটা মনে হয় যে, সময়সূচীতে লেগে থাকা এখন অগ্রাধিকার হয়েছে।
সুইস-ভিত্তিক মহামারী বিশেষজ্ঞ আন্টোইন ফ্লাহাউট বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ের ভেরানের দাবির কথা উল্লেখ করে যে বিধিনিষেধগুলি কেবল তখনই প্রত্যাহার করা হবে- যদি কভিড-১৯ এ আক্রান্তের হার প্রতি ১ লাখ লোকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ -এর নিচে হয়। কিন্তু এখন এটি ৫৪৬-এ।
সরকারের আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা ১ হাজারের নিচে আনার লক্ষ্যেও ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি যা ২ হাজারের বেশী রয়েছে।
ডাক্তারদের ইউনিয়ন ইউএফএমএল-এর প্রধান জেরোম মার্টির মতে, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা দ্বারা চালিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি অসময়ে এবং বিপথগামী। তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা পুরোদমে চলছে। উদ্দেশ্যটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক, স্যানিটারি নয়।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান হিসাবে ‘টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস’ বুধবার সতর্ক করেছিলেন, “এই মহামারী শেষ হতে অনেক দূরে”।