টাঙ্গাইলের কাঁচাবাজার এখন ভরে গেছে শীতকালীন সবজিতে। তবে দাম বেশি হওয়ায় সেই সবজি স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তারই নিরিখে টাঙ্গাইলে ১০ টাকার বাজার বসিয়েছিল ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’। ‘বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন’- এর যৌথ উদ্যোগে শহরের হাজরাঘাট বস্তিতে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজার বসানো হয়। ওই বাজার থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সবজি, মাছ ও মাংস কিনতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। এতে খুশি স্বল্প আয়ের মানুষ।
স্বল্প আয়ের মানুষ ১০ টাকার বিনিময়ে এক কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, এক কেজি মূলা, এক কেজি শিম, আধা কেজি পেঁয়াজ, ফুল কপি, মিষ্টি লাউ, লাল শাক, পালন শাক, তিনটি শিং মাছ কিনতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি ফ্রিতে দেওয়া হয়েছে কাঁচামরিচ। এই ক্রেতাদের মাঝে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী ব্যক্তির কাছে ১০ টাকার বিনিময়ে এক কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রোমেছা বেগম বলেন, শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন আমাদের অনেক উপকার করে। শীতবস্ত্র থেকে শুরু করে খাবার দিয়েও আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। ইতোপূর্বে আমাদের এখানে এমন কোনো বাজার বসেনি। ৭০-৮০ টাকার কপি, লাল ও পালন শাক এবং মিষ্টি লাউ আমি ৩০ টাকা দিয়ে কিনতে পেরেছি। প্রতিটি সবজি বর্তমান বাজারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে কিনতে পেরে আমি খুব খুশি।
সজল মিয়া নামের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, ১০ টাকার বাজার থেকে ডাল কিনেছি, কপি কিনেছি, পালন শাক কিনেছি। সঙ্গে কাঁচামরিচ ফ্রি পেয়েছি।
মমতা বেগম নামে এক নারী জানান, আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্নার কাজে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করি। বাজারে গেলে অনেক সবজি পাওয়া যায়। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আমরা কিনতে পারি না। ১০ টাকার বিনিময়ে আমাদের সবজি দিয়ে আমাদের অনেক উপকার করল। এতে আমার সময় ও টাকা বেঁচে গেছে। এ রকম বাজার মাঝে মাঝে বসলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক ইসরাত জাহান ও রাফি আক্তার জানায়, ইতোপূর্বে আমরা কখনো ১০ টাকার বাজার দেখিনি। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমাদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রথম ১০ টাকার বাজার আমরা বসালাম। এখানে সব কিছুই ১০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। তিনটি শিং মাছও ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পছন্দ অনুযায়ী তিনটি পণ্য কিনলে মরিচ ফ্রি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে লটারি মাধ্যমে মুরগি দেওয়া হয়েছে। এ রকম কাজে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা খুবই খুশি।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, সাধারণদের কথা চিন্তা করে ন্যূনতম মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করে সবজি ও মাছ মাংস দেড় শতাধিক মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য আমরা বিক্রি করার চেষ্টা করেছি। ক্রেতারা আত্মতৃপ্তি অনুযায়ী বাজার করেছেন। আমাদের পণ্যভেদে ১০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বাজার থেকে আমরা ধারণা নিলাম কোন কোন পণ্যগুলো মানুষের বেশি চাহিদা। এমন উদ্যোগ আমাদের আগামীতেও থাকবে। টাঙ্গাইল জেলার বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মাঝে এমন বাজার করা হবে। সমাজে যারা বিত্তবান আছে তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালে ভালো হয়।