প্রবাসী এক যুবকের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। কিন্তু সেই বিয়েতে সম্মতি নেই পাত্রী খাদিজার (১৮)। কেননা তিনি ইতোমধ্যে ওয়ালীউল্লাহ নামে এক যুবকের সাথে তার মনের লেন-দেন করে ফেলেছেন। ব্যাপারটি পরিবারের কাউকে বলতেও পারছিলেন না। কৌশলে তিনি হার্টে ব্যাথার নাটক মঞ্চস্থ করলেন।
সেই নাটক বুঝতে না পেরে তাকে বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী ইব্রাহীম খলিল শফিং কমপ্লেক্স এন্ড প্রিয়ম নিবাসস্থ মা হাসপাতালে নিয়ে যান মেয়ের বাবা আবুল হাশেমসহ স্বজনরা। একদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ১৬ ডিসেম্বর বিকালে কর্তব্যরত ডাক্তার মাহফুজুর রহমান হার্টের আরো কিছু টেষ্ট করেন।
কিন্তু এতেও হার্টের কোন সমস্যা তিনি খুঁজে পাননি। ফলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। চিন্তিত ডাক্তার রোগী খাদিজার আসল সমস্যা বুঝার জন্য স্বজনদের তার চেম্বার থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। স্বজনরা দূরে সরে গেলে ডাক্তার হার্টে ব্যাথার আসল কারণ জানতে চান। তখন তিনি (খাদিজা) ঘটনা খুলে বললে ডাক্তার বুঝতে পারেন হার্টের এ ব্যাথা প্রেমিকের জন্য।
পরবর্তীতে তিনি (ডাক্তার মাহফুজ) ঘটনা শেয়ার করেন স্বজনদের সাথে। ঘটনা শুনে খাদিজার স্বজনরা রাগাম্বিত হয়ে পড়লে ডাক্তার তাদের শান্ত করে প্রেমিকা খাদিজার ফোন দিয়ে প্রেমিক ওয়ালীউল্লাহকে হাসপাতালে আসতে বলেন। ওয়ালীউল্লাহ হাসপাতালে আসার পর ডাকা হয় ওয়ালীউল্লাহর অভিভাবক খালা এবং ভগ্নিপতিকেও। উভয়পক্ষের স্বজনরা এলে দীর্ঘ আলাপচারিতায় উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তমতে হাসপাতালেই বিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত হয়। এসময় ডাকা হয় কাজীকে। বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় এ প্রেমিক জুটির প্রেমের বিজয় হয় হাসপাতালেই বিয়ে পড়ানোর মাধ্যমে।
সব সময় রোগী ও চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকা হাসপাতালের নার্স, ডাক্তাররাও যোগদেন ভিন্ন এ বিয়ের আয়োজনে। সেখানেই বিয়ের পোশাক ও প্রয়োজনীয় সমাগ্রী কিনে আনা হয়। সেখানেই নার্স এবং খাদিজার স্বজনরা কনেকে বধূবেশে সাজিয়ে দেন। সম্পন্ন হয় বিয়ে। বিয়ে সম্পন্ন হলে অনেক নার্সকে দেখা যায় এ দম্পতির সাথে ছবি তুলতে।
তাদের বিবাহিত জীবনের শুভ কামনা জানিয়ে অনেক নার্স, ডাক্তার আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোষ্ট দেন। মা হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার মাহফুজুর রহমান জানায়, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি অভিভাবকদের ঘটনা খুলে বলেছেন, স্বজনদের বুঝিয়েছেন। স্বজনরা তার কথা শুনে, পরিস্থিতি বুঝে কাজী ডেকে হাসপাতালেই বিয়ে সম্পন্ন করান।