স্বজন, মানে আপনজন। যে কখনো শত্রুতা করবে না। প্রতিদ্বন্ধি হওয়ারতো প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু সকল নীতিবাক্য বাদ দিয়ে স্বজনদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিদ্বন্ধিতা। কেননা নির্বাচন বলে কথা। স্বজনরাই যেখানে প্রতিদ্বন্ধি।
আসন্ন নাসিক নির্বাচনে এক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধি হয়েছেন অপর স্বজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। স্বজনদের এমন প্রতিদ্বন্ধিতা নিয়ে এলাকায়ও চলছে নানা মুখরোচক গল্প। আলোচনা, সমালোচনা। নাসিক ১নং ওয়ার্ডে পিতা-পুত্র ও চাচা-ভাতিজা হয়েছেন একে অপরের প্রতিদ্বন্ধী। এ ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হাজী মোঃ আনোয়ার ইসলাম
একই ওয়ার্ডে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তার ছেলে মোঃ মাহাবুব আলম। একইভাবে তার ভাতিজা ও বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুকও প্রার্থী। একই ওয়ার্ডে পিতা-পুত্র ও চাচা-ভাতিজা একে অপরের প্রতিদ্বন্ধি। নাসিক ২ নং ওয়ার্ডে আপন দুই ভাই বর্তমান কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ও কামাল হোসেন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
৩ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদলের পাশাপাশি তার স্ত্রী চাঁদনী আক্তার জ্যোতি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৪ নং ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম ও তার ভাই জহিরুল হক কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ৫ নং ওয়ার্ডেও আনিসুর রহমান এবং তার ভাই কবির হোসেন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। একইভাবে ৬ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং তার ভাগীনা আল মামুনুর রশীদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল ও মজিবুর রহমান মন্ডল প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ৭ নং ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন তানজীম কবির সজীব ও তার ভাই তৌহিদ কবির।
আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নাসিকের মোট ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৮৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেদের মত করে চালিয়ে যাচ্ছে প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে মিছিল, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্র্থীরা। সেই প্রার্থীদের অনেকেই তাদের স্বজনদের প্রতিদ্বন্ধি হয়ে নির্বাচনে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
তবে এলাকাবাসী বলছেন, ডামি (কৃত্রিম বা সাজানো) প্রার্থী হিসাবে তাদের স্বজনরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, প্রার্থী হয়েছেন। কেননা নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তাদের নিজস্ব পুলিং এজেন্ট দিয়ে মূল প্রার্থীর পক্ষে ডামি প্রার্থীর লোকজন কাজ কররতে পারবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক প্রার্থীও স্বীকার করলেন এমন কথা। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছুটা সুবিধা পাওয়ার আশাতেই আমার ভাইকে প্রার্থী করেছি। এতে কোন সমস্যা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।