রাফসান রয়েল। ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল গুগলে কাজ করার। ইচ্ছা অনুযায়ী হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগুনোর চেষ্টা। অবশেষে সফলতা। বলছিলাম- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অজপাড়াগাঁ হানুয়ারের আসাদুজ্জামান রয়েল ও রহিমা রয়েল দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান রাফসান রয়েলের কথা। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে তিনি গুগলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এখন গুগলে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রোগ্রাম ম্যানেজার।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান রয়েলের তিন সন্তানের মধ্যে বড় রাফসান শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই ছিলেন প্রখর মেধাবী। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভসহ এসএসসি পরীক্ষায় মেধার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন দেশ সেরা ঢাকা নটরডেম কলেজে। এইসএসসিতে ভালো ফল করে লক্ষ্য অর্জনে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে বিবিএ (ব্যাচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ভর্তি হন। পাশাপাশি টার্গেট পূরণে রবিতে জব নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পরীক্ষায়ও মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে বৃত্তি নিয়ে আমেরিকার ভ্যালপ্যারাইজো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল কমার্স অ্যান্ড পলিসিতে মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। সেই থেকে তার ছুটে চলা। সেই রাফসাল রয়েল এবার যোগদান করেছেন বিশ্বখ্যাত তথ্য প্রযুক্তির সূতিকাগার গুগলে।
তার বাবা আসাদুজ্জামান রয়েল বলেন, সে ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেছে। তার (বাবার) হাত ধরে ডিবেটিং, বিজ্ঞান ক্লাবসহ নানান কাজে উৎসাহী ছিল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বুয়েটে চান্স না পেয়ে কিছুটা কষ্ট পায়। কিন্তু তিনি ও তার স্ত্রী’র উৎসাহে রাফসান নিজেকে আবার সামলে নেন। শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। তার বরাবরই আশা ছিল বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠান গুগলে একদিন কাজ করবে।
সম্প্রতি রাফসান অল্প সময়ের ছুটিতে দেশে আসেন। রাফসান বলেন, লক্ষ্য অটুট থাকলে সাফল্য আসবেই। আজ এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ মিলেছে। দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ের বলে বলিয়ান হয়ে তিনি গুগলের মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।