জাতীয় নির্বাচনের আগে সংলাপে বসতে বিএনপি রাজি থাকলে বিষয়টি ‘বিবেচনায় নেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে আগামী নির্বাচন যে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। রোববার (২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদপরবর্তী মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনি ফখরুলকে জিজ্ঞাসা করেন তারা সংলাপ করতে রাজি আছে কিনা। এরপর আমরা বিবেচনা করব। কারণ আমাদের প্রেসিডেন্ট (রাষ্ট্রপতি) একবার ডেকেছিলেন, নির্বাচন কমিশন দুইবার তাদের ডেকেছে। তারা আসেনি। তাদের অ্যাটিচিউডটা কি সেটা আগে জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বলেছি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। কত দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেটা দেখবেন। ‘আমিই সব কিছু’- একথা আমাদের কারোরই মনে করা ঠিক না। আমি এখনো চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। ইলেকশনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক, সেজন্য আমরা চাই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি বন্ধুরা কেউ হস্তক্ষেপ করছেন না, কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা তাদের কথাবার্তা, ভালো পরামর্শ শুনব। কিন্তু নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানই আমাদের বিধান। কারো পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশনে এদেশে নির্বাচন হবে না। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় এদেশেও সেভাবে হবে।
তিনি বলেন, শুনেছি তারা ৩৬ দলের রূপরেখা একদফা আন্দোলন করবে। সেটি এখনো শুরু হয়নি। শুরু হতে হতে কত দল এখান থেকে কেটে পড়ে সেটা দেখার বিষয়। কত দল শেষ পর্যন্ত থাকে সেটি দেখার বিষয়। আমরা খবর পেয়েছি, ক্ষমতার ভাগাভাগিতে কে কি পাবে- তা নিয়ে ৩৬ পার্টির মধ্যে দরকষাকষি চলছে।
আমাদের গণতন্ত্র পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয় জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। আরও ২-৩টা নির্বাচন করতে হবে। মার্কিন ভিসানীতি-নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সব বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অটুট থাকবে। বন্ধুত্ব থাকবে, লেনদেন থাকবে। কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, সেটা বন্ধুত্বেরই অংশ।
তিনি বলেন, রাজনীতির বিষয় রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে এতে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বলে দিবে করণীয় কী হবে। জনগণের জানমাল রক্ষায় আমরা মাঠে, রাজপথে সতর্ক অবস্থানে আছি। নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি সমাবেশ কর্মসূচি আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।