বাংলাদেশের সংবিধানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার ও অংশগ্রহণ করার সুযোগ লাভ করতে পারেন’ এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চার্টার, সনদ ও গাইডলাইনসমূহে অনুসমর্থন করেছে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চীনের বেইজিংয়ে ‘ চায়না ন্যাশনাল কালচারাল হেরিটেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ আয়োজিত ‘Asian Dialogue for the Cultural Heritage Conservation’ শীর্ষক সম্মেলনে Non-AACHC (Asian Alliance for Cultural Heritage Conservation) member states এর অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তৃতা প্রদানকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি সচিব বলেন, বাংলাদেশ সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আগ্রহী। চীন, জাপান, ভারত, ফ্রান্স সহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ ও মসজিদের শহর বাগেরহাট ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য এবং সুন্দরবন প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তাছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো’র ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এশিয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রথম বহুপাক্ষিক সম্মেলন ‘Asian Dialogue for the Cultural Heritage Conservation’ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দিনব্যাপী (২৭-২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইউনেস্কো, ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম এবং ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন মনুমেন্টস অ্যান্ড সাইটস সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পাশাপাশি এশিয়ার ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে- “Asian Initiative for Cultural Heritage Conservation: Promoting Dialogue among Civilizations, Shaping the Future of Asia.”