চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারীতে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনের তরতাজা প্রাণ ঝরে গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, তিনটি শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছে। নিহতরা সকলেই সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী। তারা সকলে সিএনজি অটোরিকশা যোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নানুপুর এলাকায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উক্ত মহাসড়কের উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চারিয়া এলাকার বোর্ড স্কুল সংলগ্ন ইজতেমার মাঠের সমানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহজাহান বলেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারীর চারিয়া এলাকায় বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর তাদের লাশ নাজিরহাট হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের চারিয়া এলাকায় শহরগামী পদক্ষেপ নামে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী একটি বাসের (চট্টমেট্রো-ব ১১-১৮০৮) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আশা ফটিকছড়িগামী অপর একটি সিএনজি অটোরিকশাটি (চট্টগ্রাম-থ ১৩-০৮১৮) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। সিএনজিতে থাকা আরোহীরা রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে। এ সময় তিনজন নারী, তিনটি শিশু ও একজন পুরুষ সিএনজি আরোহী একই পরিবারের সাতজন ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। ফটিকছড়িগামী সিএনজি অটোরিকশাটি অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসের সামনে পড়ে। বাসটির গতিও বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজির সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনায় নিহতারা হলেন-চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের ধোপা পাড়া এলাকার দুলাল মাস্টার বাড়ির মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী নারায়ন দাশের স্ত্রী রিতা দাশ ওরফে মায়া (৩৫)। তার ৪ সন্তান যথাক্রমে- শ্রাবন্তী দাশ (১৭), দ্বীপ দাশ (৫), দিগন্ত দাশ (৫), বর্ষা দাশ (১২)। এছাড়া ননী গোপাল দাশের কন্যা নিহত রিতার ননদ চিনু বালা দাশ (৫০) ও সম্ভু দাশের পুত্র নিহত রিতার ভাসুরের ছেলে বিপ্লব দাশ (২৭)।
এসময় সিএনজির ধাক্কায় তিনজন পথচারী গুরুতর আহত হয়। তারা হলেন-চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর ধোপা পাড়া দুলাল মাষ্টারের বাড়ির শশীল দাশের পুত্র বাপ্পা দাশ (২৮), ফটিকছড়ির বারমাসিয়া বৈদ্যরহাট এলাকার নেপাল দে’র পুত্র বিপ্লব দে (২৪) ও নুরজাহান বেগম (৫৫)। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা রশ্মি চাকমা।
নিহত রিতার ভাসুর সুনীল দাস জানান, নিহত রিতা তার ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা থেকে ফটিকছড়িতে তার বাপের বাড়িতে যাচ্ছিল। গত এক মাস আগে তার ঠাকুর দিদি পরলোকগমন করেছিল। আজ (মঙ্গলবার) ছিল ওই ঠাকুর দিদির শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। তারা অটোরিকশা যোগে হাটাজারীর গেলে তারা দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আকতার হোসেন খান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। এখানে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ সড়কের এক পাশে সারি করে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের তিনজন পুরুষ, তিনটি শিশু ও একজন নারী। তার পরিষদ থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজে প্রশাসনকে তিনি ও তার সহকর্শীরা সহযোগিতা করছেন। দুর্ঘটনার চিত্র দেখে এলাকার মানুষ শোকে বিহবল হয়ে পড়েছে।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। তারা একই পরিবারের সদস্য। চন্দনাইশ থেকে তারা সিএনজি অটোরিকশা যোগে ফটিকছড়ি উপজেলার দিকে যাচ্ছিল পরিবারটি। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরুত হাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চমেকা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘাতক বাসটির চালক পালিয়ে গেছে৷ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে দুমড়ে মুছে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা ও ঘাতক বাসটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে।