শীতের এই সময়টা একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে, অন্যদিকে শারীরিক নানা সমস্যাও তৈরি করে। শরীর সুস্থ রাখতে হলে ফুসফুসও সুস্থ রাখা খুবই জরুরি। কোনো কারণে ফুসফুসের সমস্যা হলে দেখা দেয় শ্বাসযন্ত্রের নানা জটিলতা। এর মধ্যে অ্যাজমা, সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) ও নিউমোনিয়া অন্যতম।
শরীর ভালো রাখতে নজর দিতে হবে ফুসফুস সুরক্ষায়। এজন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা, সঠিক খাদ্যাভাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করার সময় পান না। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা মেনে চললেও সুস্থ থাকা যায়। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেয়া যাক যে খাবার খেলে ফুসফুস ভালো থাকবে সে সম্পর্কে-
আমলক
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আমলকি খেলে যকৃতের ধূলিকণার সব ক্ষতি ঠেকানো যায়। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠাণ্ডা-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও আমলকির জুসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তা।
টমেটো
শরীরকে রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তোলে টমেটো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় টমেটোর এসব কার্যক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, টমেটোতে আছে দারুণ অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ প্রভার,যা কোষকে বুড়ো হতে দেয় না। এ ছাড়া নানা রকম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে টমেটো। টমেটোর লাইকোপেন শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা–স্তর হিসেবে কাজ করে। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণার প্রভাব হিসেবে কাজ করে লাইকোপেন।
হলুদ
হলুদ পরিচিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। দূষিত কণার প্রভাব থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষা দিতে কাজ করে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কফ ও অ্যাজমার সমস্যা সমাধানে হলুদ ও ঘিয়ের মিশ্রণ কাজে লাগে। এ ছাড়া হলুদ, গুড় ও মাখনের মিশ্রণ অ্যাজমা দূর করতে পারে।
তুলসী
বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে ফুসফুসকে রক্ষা করতে পারে তুলসীপাতা। এ ছাড়া বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসীগাছ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প করে তুলসীপাতার রস খেলে শরীরের শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর হয়।
লেবুজাতীয় ফল
কমলা ও লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। লেবুজাতীয় ফল নিয়মিত খেলে ফুসফুসে বায়ুর ক্ষতিকর উপাদানগুলোর প্রভাব পড়তে পারে না। খবর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।