শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের বয়ানে মসজিদের হাজারো মুসল্লিদের সামনে মাওলানা আবদুল আউয়াল এমন ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় উপস্থিত হাজারো মুসল্লি সমর্থন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন : বিতর্কের জেরে পিছু হটলেন কাউন্সিলর বাদল –
বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র হলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী । ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘মাসদাইর কবরস্থানের পাশে মসজিদের সঙ্গেই দীর্ঘদিন একটি মাদ্রাসা ছিল। মাদ্রাসাটি ভেঙে দিয়েছেন মেয়র আইভী।
তিনি কথা দিয়েছিলেন নিজস্ব অর্থায়নে মাদ্রাসাটি করে দিবে কিন্তু এত বছর হয়ে গেল মাদ্রাসাটি নির্মাণ করে দিল না। ইদানীং খবর পেলাম বাগে জান্নাত মসজিদ এবং মাদ্রাসা ভাঙার জন্য লোক পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে নাকি সিটি করপোরেশনের জায়গা দাবি করে, সে নিজেই গিয়ে এটাকে ভেঙে পার্ক বানানোর কথা বলেছেন।’
মেয়র আইভীর সমালোচনা করে আবদুল আউয়াল আরো বলেন, ‘এখন আবার আলোচনা শুনছি, ডিআইটি মসজিদের সামনে নাকি ফ্লাইওভার বানানো হবে আর শেখ রাসেল পার্কের দর্শনার্থী নারী-পুরুষ সব মসজিদের ওপর দিয়ে চলাচল করবে।
আপনারা বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা? এখন উনার টার্গেট ডিআইটি মসজিদ নিয়ে যাওয়ার। মসজিদ নিয়ে নিজের মনমতো বানাবে। আমাকেও বলেছিলেন, মসজিদটা তাকে দিয়ে দিতে। আর এখন আমি ‘সাধারণ সম্পাদক’ হওয়ায় তার মাথা তেলেবেগুনে জ্বলতে শুরু করেছে।’
আরও পড়ুন :উগ্রবাদী বইসহ আনসার আল ইসলামের জঙ্গী গ্রেফতার
আবদুল আউয়ালের ভাষ্য, ‘আপনি মেয়র হওয়ার বহু আগে থেকেই এখানে এই মসজিদ সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই জায়গা আপনার বাবার না। রেলওয়ের জায়গা দখল করে যা মনে চায়, তাই করছেন। এখন আবার ডিআইটি মসজিদ নিয়েও আপনি যা মনে চায়, তাই করতে চাইছেন?
মেয়রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আইভী’ আপনি মনে রাখবেন, আমি আবদুল আউয়াল চলে যেতে পারি। জনগণ কোনো দিনও আপনাকে ছাড়বে না। হে ঈমানদারেরা, ঈমানের ওপর বলিয়ান হও। এই ডিআইটি মসজিদের ওপর যদি কেউ হাত দেয়, তার কবর রচিত হবে এই বাংলার জমিনে। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফ্লাইওভার কোনোদিনও বাস্তবায়িত হতে দেব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘উনি নারায়ণগঞ্জের মেয়র। মুসলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে সিঁদুর লাগিয়ে মন্দিরে গিয়ে পূজা করছেন। সেই ছবি নাকি ভাইরাল হয়েছে। একজন আমাকে এনে দেখালেন। আপনি কোরবানি করেন না, অথচ ১০ মহরমে গরু জবাই করেন।
মাজারপন্থি, শিরকপন্থিদের সমর্থন করেন আর কওমি মাদ্রাসাপন্থিদের সতিনের ছেলে মনে করেন। আপনি তো সেই আইভী। আপনার ইতিহাস উন্মোচন হচ্ছে। এগুলো কোনো দিন মুসলমানরা সহ্য করবে না’।