মুসলিম জাতির বিজয়ের জন্য এখন ঐক্য জরুরি। সেটা দেশ বা বিদেশের যেকোনো বিষয় হোক। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে এক সেমিনারে ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ কথাগুলো বলেন। মসজিদুল আকসার পবিত্রতা রক্ষা, স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বকীয়তা রক্ষা ও দখলদার ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদে মুসলিম উম্মাহর করণীয় শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ওলামা মাশায়েক আইম্মা পরিষদ।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ফিলিস্তিনে নিরীহ জনগণের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর প্রতিবাদে বাংলাদেশ দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ করেনি। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অথচ অমুসলিম দেশগুলোতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। তুরস্কসহ বহু দেশ ইসরাইলি পণ্য বয়কট করেছে। মুসলিম জাতির বিজয়ের জন্য এখন ঐক্য জরুরি। সেটা দেশ বা বিদেশের যেকোনো বিষয় হোক।
তিনি বলেন, মুসলমানদের দাবি আদায় করতে হলে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থাকলে কোনো দিনই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। সেটা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যেটাই হোক না কেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে লজ্জিত জানিয়ে আহমাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ করেনি। এখন দেরিতে হলেও তা শুরু হয়েছে। তবে এ আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। আর মনের মধ্যে মসজিদুল আকসার প্রতি সবসময় টান অনুভব করতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অফিসে মসজিদুল আকসার ছবি টাঙাবো। এটা যখনই দেখব, তখন যাতে আকসার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। বাচ্চারা যেন মসজিদুল আকসা সম্পর্কে জানতে পারে।
ইসরাইলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে আহমাদুল্লাহ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ইসরাইলি পণ্য বয়কট করেছে; যা আমাদের দেশে হয়নি। মুদি দোকানে ইসরাইলি পণ্য বয়কটের তালিকা টাঙিয়ে দিয়ে এটা কার্যকর করা যেতে পারে।
চলতি বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের ওপর হামলা শুরু করে ইসরাইল। এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে।
সেমিনারে চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ জাতীয় ওলামা মাশায়েক আইম্মা পরিষদের সহ-সভাপতি গাজী আতাউর রহমান, জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান, ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।