বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মুঠোফোন আইনশৃংখলা বাহিনী ছিনিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লংঘন করছে। সেই সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বিটিআরসি জনগণকে বঞ্চিত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, নাগরিকদের সেবা প্রদান এবং তাদের অধিকারকে সংরক্ষণ করার জন্য দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। তেমন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ হলো দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচালনা এবং সেবার মান দেখভাল করা। কিন্তু জনগণের টাকায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকেই বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার জনগণের বিরুদ্ধে নিপীড়নের আরেকটি আধুনিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে জনগণকে, কেড়ে নেয়া হচ্ছে মত প্রকাশের অধিকারকে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১২ জুলাই এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঐতিহাসিক সমাবেশ চলাকালে ওই এলাকার ইন্টারনেট সুবিধা বিচ্ছিন্ন/বিঘ্নিত করা হয়েছিল। অথচ সেদিন ওই সময়েই সরকারি দলের সমাবেশস্থলের ইন্টারনেট সংযোগ ছিল স্বাভাবিক। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউনের এটিই প্রথম ঘটনা নয়। ইতোপূর্বে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী এবং ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতেও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার লংঘন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ আগ্রহী মহলকে করা হয়েছে বিচ্ছিন্ন।
ফখরুল বলেন, এতদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন, জেল-জুলুম, নির্যাতন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা- মামলাসহ বিভিন্ন রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দমন করার অপচেষ্টা করেছে। তাদের সমস্ত অপচেষ্টাই প্রায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এখন নতুন অস্ত্র হিসাবে ইন্টারনেট-শাটডাউন প্রয়োগ করছে। পুলিশ কেড়ে নিচ্ছে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাক্তিগত ডিভাইস মোবাইল ফোন। তথ্য প্রাপ্তির অধিকার বাধাগ্রস্ত করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা মানবাধিকারের ভয়ঙ্কর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষের বাস্তব জীবনে যে অধিকার আছে, অনলাইনেও সেই একই অধিকার বলবৎ আছে। আজ অধিকাংশ মানুষ তার চিন্তা ভাবনাকে অনলাইনের মাধ্যমেই প্রকাশ করে থাকেন। বাস্তব জীবনে মানুষের গোপনীয়তা রক্ষার যে অধিকার আছে অনলাইনেও সেই গোপনীয়তা রক্ষা করার অধিকার তার রয়েছে। তাই ডিজিটাল-অধিকারকে লঙ্ঘন করে তার তথ্য প্রাপ্তির অধিকার বাধাগ্রস্ত করা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা মানবাধিকারের ভয়ঙ্কর লঙ্ঘন।
ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ সব ধরনের ডিজিটাল-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিএনপির মিডিয়া সেল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য কাদের গণি চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আক্তার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ।