আগামী দুই বছরের মধ্যে পাইপালাইন দিয়ে চট্রগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে জ্বালানী তেল সরবরাহ হবে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। বিশ্ববাজারের সাথে তেলের দাম সমন্বয় করে দাম নির্ধানের কাজ চলেছ। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপোর রিসিভার টার্মিনাল স্থাপনের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্রুততম সময়ে মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানী তেলের সরবরাহ নিশ্চত করার জন্য সরকার চট্রগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন করছে। এরই মধ্যে পাইপলাইনের অনেক কাজ এগিয়ে গেছে। আগামী দুই বছরের মধ্য্যে পাইপালাইন দিয়ে চট্রগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে জালানী তেল সরবরাহ হবে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। পাইপলাইনে তেল সরবাহ করা হলে পরিবহন খাতে জ্বালানী তেলের দাম অনেক সাম্রয়ী হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের সাথে তেলের দাম সমন্বয় করে দাম নির্ধারনের কাজ চলেছ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইসপাইল স্থাপনের কাজ তদারকি করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহনীর ইঞ্জনিয়ারিং কোরের ২৪ ও ৩৪ ফ্রিগেট। বাংলাদেশী ঠিকাদারের মাধ্যমে এই পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। ২০১৬- ২০১৭ সালে এই কাজ শুরু হলেও কভিডের কারনে দুই বছর কাজ বন্ধছিলো। যে কারনে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। তিনি বলেন, পাইপলাইন স্থাপন সম্পন্ন হলে জ্বালানী সরবরাহে ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারি পদক্ষেপ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে পতেঙ্গা থেকে গভীর সমুদ্র বন্দরে ডিপসীল পাইপলাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগে বড় মাদার ব্রেসেল থেকে ছোট ছোট লাইটার জাহাজে করে তেল নিয়ে পতেঙ্গাতে আসতো। সেখান থেকে গাড়িতে বা ছোট ছোট জাহাজে করে বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করা হতো। মাদারব্রেসেল বা বড় জাহাজ ১২-১৪ দিন বসে থাকার কারনে ডেমারেজ গুনতে হতো। সীপসীল পাইলাইন স্থাপনের কারনে খরচ কমে আসবে। এছাড়া পাইপালাইনের মাধ্যমে চট্রগ্রাম পতেঙ্গা থেকে গোদনাইল এবং গোদনাইল ডিপো থেকে বিভিন্ন জায়গার সরবরাহ করা হবে। এতে করে তেল পরিবহনে খচর অনেক কমে আসবে। প্রাইজে সেভ হবে। তিনি আরো বলেন, রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে পাইপের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর পর্যন্ত বিমানের জ্বালানী তেল কুর্মিটোলা ডিপোতে চলে আসবে।
তিনি বলেন, পাইপলাইনে তেল সরবরাহ জন্য স্কাটার্স সিস্টেম স্খপন করা হয়েছে। পাইপের মধ্যে জ্বালানী তেলের টেম্পেরেচারে পরিবর্তন বা কোন টেম্পারিং হলে টেকনোলজির মাধ্যমে তা মনিংটরিং করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি একটি বড় প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রশ্ন থাকে। সংসদীয় কমিটি বিসিপি আর্থিক বিষয় নিয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা বিপিসিকে বলেছি, একটি তৃতীয় অডিড প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ফাইনান্সসিয়ালসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি অডিট করানোর জন্য। তিনি বলেন, প্রতি পাচঁবছর পর পর যদি প্রতিষ্ঠানের চেক এন্ড ব্যালেন্স প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যেহেতু আগামীতে তেলের ওপেন মার্কেটে প্রবেশ করার চেষ্টা করছি, তাই আমাদের পলিসি লেভেলেও গুনগত পরিবর্তন প্রয়োজন। লেগুলেটরি বড়ি সাথে আমারা কথা বলছি, আগামীতে তেলের দাম নির্ধারন কি তিন মাস পর পর, নাকি দুই মাস পর নাকি এক মাস পর পর নির্ধারন করা হবে সে বিষয়ে আগামী বছরের শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেবো।
সাংবাদিদের এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বিশ্ববাজারের তেলের দামের সাথে সমন্বয় করে প্রাইজ নির্ধারণ করার কাজ চলছে।
পরে মন্ত্রী শিবু মার্কেট এলাকায় তেল সরবরাহেব পাইপলাইনের কাজ ও ফতুল্লার মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো প্রস্তাবিত রিসিভ টার্মিনালের নির্মাণ কাজ জায়গা পরিদর্শন করেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ বিপিসির ও সেনাবাহনীর ইঞ্জনিয়ারিং কোরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।