ফরিদপুরের সালথায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১৫ ঘণ্টা অবস্থান নিয়েও দাবি পূরণ করতে পারেনি দুই সন্তানের জননী। প্রেমিক তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলেও এ সময় হুমকি দেন ঐ নারী। শুক্রবার (২ ডিসেম্বের) সকালে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউপির কাগদী স্বজনকান্দা গ্রামে প্রেমিক হাফিজুর মোল্যার বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি। তবে দিনভর সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন পুলিশ। অভিযুক্ত প্রেমিক হাফিজুর কাগদী স্বজনকান্দা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। ওই নারীর বাড়িও একই গ্রামে।
বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেওয়া ঐ নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দুই সন্তানের জনক হাফিজুরের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক চলছে। এরমধ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক করেন হাফিজুর। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে হাফিজুর আমার সঙ্গে দেখা করে তার বাড়িতে যেতে বলেন। কিন্তু শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে আমি হাফিজুরের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের লোকজন আমাকে মারধর করে। হাফিজুরের জন্য আমার ঘর-সংসার সব শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাফিজুর এখন আমাকে বিয়ে না করলে আমার মরা ছাড়া গতি নাই। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ওই নারীর ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, বিয়ের দাবিতে আমার বোন তার প্রেমিক হাফিজুরের বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ এসে আমার বোনকে উদ্ধার করে আমাদের বাড়িতে দিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে হাফিজুর পলাতক রয়েছে। যদ্ধরুণ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার মা বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ওই নারীর কোনো সম্পর্ক নাই। ওই নারীকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও হাফিজুরের মা উল্লেখ করেন।
হাফিজুরের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ওই নারীর সঙ্গে প্রেম করায় গত ৪ মাস আগে দুই সন্তান নিয়ে আমি বাবার বাড়িতে চলে যাই। এরপর গত বুধবার আমি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসি। আমি আসার পর শুক্রবার ওই নারী আমাদের বাড়িতে এসে অবস্থান নেয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, তারা দুইজনই প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের দুইজনের ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে দিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।