বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে থেকেও বিএনপি এবং পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি একমাত্র তার মতো নেতার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ঘোষিত সময়েই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। তার শারীরিক উপস্থিতি দল ও দেশের মানুষকে আরও বেশি উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করবে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাণিজ্য সংলাপ’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুর মেজবান হলে ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, বান্দরবানসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থেকে তাদের সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন।
বাণিজ্য সংলাপে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-বিজিএমইএ নেতা ও এমিয়ান গ্রুপের এমডি আবদুস সালাম, কেডিএস গ্রুপের এমডি সেলিম রহমান, সীকম গ্রুপের কর্ণধার আমিরুল হক, মীর গ্রুপের এমডি আবদুস সালাম, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিংকু, প্যাসিফিক জিন্সের এমডি তানভীর আহমেদ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নানসহ অন্তত ২০ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।
আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন পেছাতে চায় না। তবে একটা গোষ্ঠী- যারা নির্বাচন চায় না, তাদের বিষয়ে জনগণের সন্দেহ আছে। নির্বাচন না হলে, নির্বাচিত সংসদ বা সরকার না থাকলে যাদের লাভ তাদের বিষয়ে দেশের মানুষের সন্দেহ রয়ে গেছে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যায় ব্যবসাকে ব্যবসায়ীদের হাতে রাখার চেষ্টা করা হবে। আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা খর্ব করে ব্যবসায়ীদের হাতকে শক্তিশালী করা হবে। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যাতে ঘাটে ঘাটে ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়। আমলাতন্ত্রের পেছনে ছুটতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদদের কাছে ব্যবসায়ীদের যেতে হবে না; ব্যবসায়ীদের কাছেই আসবেন রাজনীতিবিদ বা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা জবাবদিহি করবেন। মোট কথা আগামীতে কেবল রাজনীতির গণতন্ত্রায়ন নয়; ব্যবসারও গণতন্ত্রায়ণ করতে চায় বিএনপি।
আমির খসরু বলেন, যেখানে ছোট বড় সব ব্যবসায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সততা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে গণহারে কনটেইনার চেকিংয়ের নামে হয়রানি করা হয়, অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা এর সুযোগ নেন। এমন সফটওয়্যার চালু করতে হবে যার ফলে কোনো কনটেইনার চেক করতে না হয়। তিনি আরো বলেন, একটি মুদি দোকানের ব্যবসা খুলতে গেলেও নাকি ১৯ জায়গায় যেতে হয়। জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র পেতে ২ মাস অপেক্ষা করতে হয়।
আমির খসরু বলেন, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রধান কারণ হচ্ছে বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না কখনো প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কখনো রাজনৈতিক ব্যক্তি কিংবা শক্তিধর ব্যক্তির ইশারায় ব্যাংকের গভর্নর পরিচালিত হয়েছেন। এ কারণে ব্যাংক লুটের পাশপাশি শেয়ার বাজারেও লুটের ঘটনা ঘটেছে। অথচ বিএনপির আমলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতে পেশাদার লোকজন বসাবে। যাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিএনপি আগামীতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন আমির খসরু।