বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন এক মহিমান্বিত নেত্রী। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন। তার মৃত্যুতে গোটা জাতি মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। তিনি ফুল পছন্দ করতেন। তাই তার জীবন ছিল সুশোভিত। সব সময় ছিলেন পরিপাটি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার আগে সঞ্চালকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার আগমন ছিল আকস্মিক। তবে আসা ছিল অনিবার্য। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে দলের সদস্য পদ নিয়ে অনিশ্চল পথচলা শুরু করেন। দলের প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী হলেও তিনি দলের নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্বে আসেন। তিনি ছিলেন আপসহীন। দেশের বাইরেও বেগম জিয়া ছিলেন সমান শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি সব সময় একাধিক আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মতো জনপ্রিয়তা বিশ্বের কোনও নেতার নেই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার সময় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আজ তিনি সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছেন। আর যারা তাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন, তারা রান্না করা খাবারও খেতে পারেননি। তাদের ওপর ফাঁসির হুলিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিবিদদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক। বলেছেন বিদেশে তার কোনও বাড়ি নেই। দেশই আমার আসল ঠিকানা। তাই দেশেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজাস্থলে আনা হয়। এর আগে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে জানাজাস্থলে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়েছেন।