বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিরাপদ বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতা, ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাভিযানের ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ (গতকাল ২৫ আগষ্ট)।
শাসকদের গণহত্যা সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে বহনযোগ্য অল্প কিছু জিনিস নিয়ে পালাতে বাধ্য করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ সহানুভূতি ও মানবতার হাত বাড়িয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়েছিল। প্রায় এক মিলিয়ন উদ্বাস্তুর প্রতি আতিথেয়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই উদারতার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়া, সপরিবারে শান্তিতে বাস করা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি, আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার, নৃশংস অপরাধীদের জন্য জবাবদিহিতা এবং সংকটের সমাধান খুঁজে পেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন পৃথক আরেক বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমানের সব মানুষের জন্য ন্যায় বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষায় সংহতি প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।