বাঙ্গালীর সাথে পিঠার একটি যোগসূত্র রয়েছে। তা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। তারা বিশ্বের যে যেখানেই থাকেন না কেন মিস করেন পিঠাকে। অনেক দেশে আবার বাংলাদেশী কমিউনিটর ঐক্যবদ্ধ হয়ে পালন করেন পিঠা উৎসবের। তেমনি গত গত ১২ জানুয়ারি আনন্দঘন পরিবেশে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রিসহাইম হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পিঠা উৎসবের। স্থানীয় প্রবাসীদের সংগঠন ফ্রেন্ডস এ্যান্ড ফ্যামিলি এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাঙ্গালিদের চেতনায় লালন করা এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫০০ প্রবাসী বাংলাদেশী ও দর্শনার্থী সপরিবারে ফ্রেন্ডস এ্যান্ড ফ্যামিলির পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

ছোট্ট শিশু উরিশা’র কোরআনে পাক থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ পিঠা উৎসবের। এরপর জাতীয় সংগীত নাত পরিবেশন করে তোবা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ খেলা- হাড়িভাঙা, চেয়ার সিটিং,বল নিক্ষেপ ইত্যাদি ছিল উৎসবের অন্যতম প্রাণবন্ত দিক। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসী ফ্রেন্ডস এ্যান্ড ফ্যামিলির সদস্যরা নিজ নিজ অঞ্চলের ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তৈরি- বাহি পিঠা, ভাপা পিঠা ,দুধপুলি, ঝালপুলি, পাটিসাপটা, বিবিখানাসহ প্রায় ২০ রকমের পিঠার আয়োজন অনুষ্ঠানটি মুখরিত করে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জার্মান প্রবাসী শিল্পী মুনিম একের পর এক গান পরিবেশন করে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। আঁখি ও রোকন ফয়সালের গান, আশমির নৃত্য, মীর জাবেদা ইয়াসমিন ইমির আবৃত্তি মুগ্ধ করেছে সবাইকে। এছাড়াও শিশু- কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে জার্মানিতে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ফ্রেন্ডস এ্যান্ড ফ্যামিলি। প্রবাসে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি, সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্য সদস্যরা।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ট্রেন ধর্মঘট থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল মিলনমেলার এই অনুষ্ঠানে। ব্যতিক্রমধর্মী এই সংগঠনের গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবাসী সদস্যরা তাদের আন্তরিকতার সবটুকু দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত করে তোলেন জানিয়েছেন আয়োজকরা