ছাত্র জীবন অফুরন্ত সম্ভাবনার প্রতীক।আগামী দিনে জাতির কর্ণধার ব্যক্তি হিসেবে। ভবিষ্যতের সাফল্য অর্জনের সূচনাপর্ব। অপরদিকে জাতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।এজন্য প্রয়োজন মহৎ গুণাবলীর চর্চা বিশেষ বিষয়ে দক্ষতা। পেশা নির্বাচন লক্ষ্যে নিজেকে গড়ে তোলা তবে ব্যক্তি ও জাতির উভয়ের কল্যাণ সাধিত হবে।
সংস্কৃত ভাষার বিখ্যাত একটি উক্তি হলো-ছাত্রনং অধ্যয়নং তপ। সেজন্য শিক্ষানবিস হিসেবে অধ্যায়নের পাশাপাশি ছাত্রসমাজ তার ছুটি কালীন সময়ে নানা ধরনের জাতিগঠন কাজে অংশ নিতে পারে। যারা সমাজের নৈতিকতার পাশাপাশি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের অবদান ব্রতচারী আন্দোলন।স্কাউট আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১১ দফা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলার ছাত্রদের অবদান ছিলো সূর্যের মতো উজ্জ্বল।অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। বিশ্বের সব দেশের উন্নয়নের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে ছাত্রসমাজ। তাইতো নেইলআর্মস্ট্রং বলেছিলেন: “That’s one small step for a man, one giant leap for mankind” অর্থাৎ গণমানুষের জ্ঞান ক্ষুদ্র পদক্ষেপ কিন্তু মানব জাতির জন্য একটি বিশাল অগ্রযাত্রা।
ছাত্র সমাজকে বলা হয় একটি সমাজের জীবন্ত বীজ।পাহাড়ের মতো বিশাল জ্ঞানের অধিকারী, নদীর মতো প্রবাহমান, তারার আলোর মতো উজ্জ্বল পথিক। তাছাড়া ছাত্রসমাজের শিক্ষা অর্জনের মূল জীবনের সর্বপ্রকার সামর্থের মানে পরিচয় দেওয়া। মানুষের প্রতিভা বিকশিত করা। যে মানব সমাজের প্রতিটি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। ছাত্র জীবন আদর্শ নৈতিকতা মূল্যবোধ এর শ্রেষ্ঠ অনুশীলনের সময়।আজকের ছাত্রসমাজ হবে আগামী দিনের সোনালি ভবিষ্যতের কর্ণধার কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজের ভূমিকা প্রশ্নের সম্মুখীন।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়:
এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য,
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মত চলে।
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য,
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।
কবি সত্যিকার অর্থে চেয়েছেন ছাত্রদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থার কারণে ছাত্রদের মাঝে নানান ধরনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। ছাত্র সমাজ হবে প্রতিবাদী নীতি-আদর্শে উজ্জল।সেই ছাত্রসমাজ আজ মিথ্যা মরীচিকার পিছনে ধাবিত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নানা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে তরুণকে করছে কুলুষিত।সহ পঠি দের সাহায্য করার পরিবর্তে অসহযোগিতা। অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে সৃষ্টি করছে অসামাজিক কার্যক্রম মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সামাজিক বিভিন্ন প্রকার উন্নয়নমূলক কর্মসূচী সহ মানব কল্যাণ মূলক কাজের পক্ষে কাজ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধ্যায়নকালে প্রতিষ্ঠান নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করা যেমন কর্তব্য। তেমনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধাবোধ সহ জ্ঞানার্জনে আগ্রহী হতে হবে। অথচ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষা দানের মাধ্যমে আলোকিত করে তাকে সালাম দেওয়া পর্যন্ত দেওয়া হয় না। মানুষকে সম্মান এর কথা যদি, কোন মানুষ বলে তাকে কটূক্তি করতেও দ্বিধা করে না। আবার দৈনন্দিন জীবনে বাস-ট্রেন এর টিকেট না কাটা ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে হৈ-হুল্লোড় করা।বেঞ্চ কিংবা দেয়ালে অশালীন কথা লিখা। স্কুল-কলেজের স্টেপলার কিংবা যন্ত্রপাতি চুরিকে অতিসাধারণ অপরাধ মনে হলেও নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল হতে থাকে এখানে। হাজিরা খাতায় রোল নম্বর তোলার জন্য ছাত্রদের হাতে দিলে বন্ধু লিখে দেওয়া অপরাধ মনে হলেও বড় অপরাধের প্রবৃত্তি হাওয়ার সৃষ্টি করে।
ইংরেজিতে একটি কথা আছে- ‘courtesy costs nothing’ অর্থাৎ সৌজন্যে প্রকাশ্য কোনো অর্থ ব্যয় হয় না।
সদ্ব্যবহার সম্প্রীতির ভাব বাক-সংযম এবং সাধারন মানুষের প্রতি মানুষের পরম ভালোবাসার ফলাফল হল মানব সমাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখা।
প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রুশো বলেন: “man is born free but is everywhere in chains” অর্থাৎ স্বাধীন অবস্থায় মানুষ জন্মগ্রহণ করে কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
আজকের অবক্ষয়ের জন্য ছাত্রর শুধু নিজেরা দায়ী নয় বরং রাষ্ট্রের ব্যর্থতা অনুকরণীয় আদর্শের অভাব। যুগোপযোগী শিল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ ভূমিকা পালনের ব্যর্থতা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আকাশ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, পিতা-মাতার অবহেলার কারণে ছাত্র সমাজের মাঝে নৈতিকতা ও শিষ্টাচার এর অভাব দেখা যায়। ফলে আমাদের শিক্ষিত মানব সমাজের মাঝে প্রভাব বিস্তার করছে তাই সকলের নৈতিক জীবন গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈতিকতা অনুসরন করা দরকার।
লেখক:
শাকের আহমেদ সোহান
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।