যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাবে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী-মনোনীত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ সহযোগীর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে এমন সংবাদ প্রকাশ করে।
তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরইদুর্নীতির মামলায় টিউলিপসহ সেখানে অবস্থানরত ‘দণ্ডিত অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক তালিকা ও আবেদন জমা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির নতুন সরকারের এই কূটনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তারা (হাসিনা ও টিউলিপ) দু’জনেই এখন বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত অপরাধী। আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে তাঁদের অনুসরণ করছে এবং আমরা এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পিছু হটব না।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে হুমায়ুন কবির এই সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘যদি আমরা অবৈধ অভিবাসন রোধে যুক্তরাজ্যের একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে পারি, তবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য কেন ভিন্ন আচরণ করবে? দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থেই অপরাধীদের ফেরত দেওয়া উচিত।’
হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে অপরাধীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি ‘বিব্রতকর বিষয়’। আমরা আশা করি, ব্রিটিশ সরকার সেসব আওয়ামী লীগ ‘সন্ত্রাসী’ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যারা লন্ডনে বসে অর্থ পাচার ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা খুব শিগগির এমন অপরাধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেব।’
হুমায়ুন কবির আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাদের বাংলাদেশে ফেরত চাই। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আমরা চাই, যুক্তরাজ্য সরকার এই অপরাধীদের চিহ্নিত করুক।’
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
অন্যদিকে, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকার একটি জমি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে আদালত চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। যদিও টিউলিপ এই বিচারকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তথ্য সূত্র: দৈনিক যুগান্তর অনলাইন।