দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার একটি প্রজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রজ্ঞাপনটি আসলে ভুয়া। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ এর উপ-সচিব সোনিয়া হাসানের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রজ্ঞাপনটি ছড়ানো হয়েছে। ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপনে সরকারি ছুটি অবহেলাকারীদের আর্থিক জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোনিয়া হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি সত্য নয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা প্রজ্ঞাপনটি সঠিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভুয়া প্রজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার (৩ জানুয়ারী) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে আরও বলা হয়, ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ উপলক্ষ্যে তিন দিনের ছুটির যে প্রজ্ঞাপনটি ফেসবুকে ঘুরছে তা বানোয়াট। এতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গত ২৮ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৭ জানুয়ারি (রোববার) সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সারা দেশে নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
প্রসঙ্গত: গত ২৪ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। ইসির চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন (৭ জানুয়ারি রোববার) সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় ৭ জানুয়ারি রোববার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানায় সংস্থাটি।