নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র তথা ‘নাসিক’ ট্রেনের চালক হতে চান কামরুল ইসলাম বাবু। বুধবার (২ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। এসময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে নিজের সংক্ষিপ্ত ইশতেহারও পেশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরতেই কাব্যিক ভাবে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বাবু বলেন, তোমরা আমাকে যতই মৌসুমি পাখি বলো না কেন। আজ থেকে এই ডানা আর ক্লান্ত হবে না, উড়তেই থাকবে আকাশে। আমি এই শহরের অনেকের কাছেই আদুরে বাবু, নাম আমার কামরুল ইসলাম বাবু। এসময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ যদি আমার নাম প্রথম শুনে থাকেন, জানিয়ে দিন এই জনপদকে।
আজ থেকে আমার নাম শুনতেই থাকবেন। কারন আমি আপনাদের পরামর্শে চলতে চাই। বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিক্ষায় আমি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এলাম। আমি চিৎকার করে বলছি, ৪৭ বছরের জীবনে এ শহরে আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। কোন মাদক গ্রহনের অভিযোগও নেই। কারণ আমি তা স্পর্শও করিনি, না আমি অবৈধ পথে পরিচালিত হই নি।
আমি অর্থবিত্তের মালিক হয়ে বুর্জোয়া শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করিনি। আপনারা আমার সম্পদের হিসেব জানিয়ে দিন রাষ্ট্রকে। আমার দল আওয়ামী লীগকে, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে। তিনি বলেন, আমার স্বপ্নের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথমিক সদস্য পদও আমি গ্রহন করবো না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সেই যোগ্যতা অর্জন না করতে পারবো৷ প্রচলিত ধারায় অনেকেই এমপি, মন্ত্রী, মেয়র হয়েছেন। কিংবা দলের পদও পাচ্ছেন।
তবে আমি মনেকরি যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনও করতে হবে আদর্শ মানতে হবে। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে পুরোপুরি ধারণ না করে আমি দলের পদ পদবী নিতে যাবো না। আমি বরং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমার গবেষণা বাড়িয়ে দেব এবং নতুন প্রজন্মকে সে সম্পর্কে অবহিত করবো।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ কর্মীকে হত্যা –
অনেকে সভা-সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে বলেন। কিন্তু তিনি নিজে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জানেন তো। বঙ্গবন্ধু চাইতেন গনতন্ত্র, জাতীয়তা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। তিনি বলতেন এই চার মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশ। একজন সাধারণ কামরুল ইসলাম বাবু বঙ্গবন্ধুর এই চার নীতিকে ধারণ করে। একজন শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে অনুকরন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
যখন তিনি বলেন, বাচ্চাদের কাধে বড় বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাওয়া তার দেখতে ভাল লাগে। কিন্তু তাদের বেশি চাপ দেয়া যাবে না। পড়ালেখার চাপে যেন তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ না হোক। যখন ১৯৮১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি শোষণের মুক্তি। বাংলার মানুষের মুক্তি যদি না আসলে তাহলে আমার মৃত্যুই শ্রেয়।
তখন তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ো যায় যখন নেত্রী বলেন, অসুস্থ হলে আমাকে বিদেশে নেবেন না, আমি দেশের মাটিতেই চিকিৎসা নেব। তখন শীতলক্ষ্যার পাড়ে গিয়ে উদাসীন বিকেলে ভাবতে থাকি আমরা কেন তার মত করে ভাবতে পারছি না। আমি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে জায়গা নেয়ার মত ব্যাক্তি নই। অনেক কিছু শিখতে হবে, জানতে হবে।
আমাদের জাতীয় চার নেতা যে ভূমিকা রেখেছেন এবং পরবর্তীতে জিল্লুর রহমান আবদুল জলিল থেকে সৈয়দ আশরাফ পর্যন্ত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এই সমাজের যত লোক আমাকে চেনে বা জানে তারা সবাই জানে আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করি এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করার ইচ্ছাও আমার হয়।
আমি বিশ্বাস করি একদিন দল থেকে ডেকে বলা হবে তুমি দলে যোদগান করো। কিন্তু আমি যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে আসবো। আমি তাতী লীগ কিংবা যুবলীগের পদ নিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে যাবো না। কিন্তু আমি ট্রেন মিস করবো না। ‘নাসিক’ ট্রেনের চালক হতে এই মুহুর্ত থেকে আমি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, আপনারা অবগত যে আমাদের অতিপ্রিয় আনিসুল হক দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
একজন আনিসুল হকের ক্যরিয়ার একদিনে গড়ে ওঠেনি। একজন গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তি হিসেবে নিজের জাত চেনাতে তিনি সক্ষম হন। আমি নেহাত সাধারণ এক মানুষ। তবে আমার মাঝেও এই ক্ষমতা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। যেটা আপনারাও জানতে এবং বুঝতে পারবেন। তিনি বলেন, আমি বলতে চাই নাসিক ট্রেনের চালক হতে আমি প্রস্তুত। কারন গেল দশ বছরে নতুন কিছুই দেখেননি এ শহরের বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ছেলে হত্যার অভিযুক্ত মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
তাদের কাঙ্খিত ভাষণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত স্লোগান দেখতে দেখতে সবাই ক্লান্ত। এরপরেও বর্তমানে যিনি মেয়র আছেন, তিনি মানুষকে ভাল সেবা দিতে চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছেন। খুবই ধীরগতিতে দ্বিতীয় ইনিংসে গতানুগতিক কাজে মনোযোগী হয়ে বলেছেন সবুজ নারায়ণগঞ্জ করবো। আদৌ তিনি সেরকম করে ভাবছেন কিনা।
আধুনিক নগরী হিসেবে তিনি যে নারায়ণগঞ্জকে সাজাতে পারেননি তা কী অস্বীকার করার সুযোগ আছে। যে বাজেট সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ হচ্ছে সে অনুযায়ী কাজ হলে বদলে যেত নারায়ণগঞ্জ। সবুজ নারায়ণগঞ্জ আমরা করতে পারি নি। বরং ঢাকা যাওয়ার পথে ময়লার স্তুপ করে আমরা প্রমান করেছি নারায়ণগঞ্জ নোংরা শহর। তিনি ও তার নিকটজনেরা রাতদিন লিংকরোড দিয়ে ঢাকা যাওয়া আসা করেন।
তাই উপস্থিত কৃতি সন্তানদের বলছি নগরীকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং নগরীর জনগনকে একজন ভাল জনপ্রতিনি বেছে নিতে হবে। বাবু বলেন, আমি চুড়ান্ত ইশতেহার ঘোষণা করে এই ট্রেন নিয়ে চলবো। বাবু এক্সপ্রেসে সবাই উঠতে পারেন। আমি চালক হিসেবে মন্দের ভাল নই, বেশ ভাল। আমি আওয়ামী লীগের প্রতি প্রত্যাশা রাখবো। প্রতীক না পেলেও সমর্থন আশা করবো।