দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৬২ জন। যা সবচেয়ে বড় চমক। তবে এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগেরই নেতা। যারা নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটল।
সর্বশেষ পাওয়া ফলাফলে আওয়ামী লীগ রোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত ২২৩ টি আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৬২ জন। জাতীয় পার্টি থেকে বিজয়ী হয়েছেন ১১ জন ও ২ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন অন্য দল থেকে।স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রে অনিয়ম হওয়ায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ। এরপর থেকে একটানা ক্ষমতায় রয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলটি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে কোনো দল যদি ১৫১ আসনে বিজয়ী হয় তাহলে তারা সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে। সেই হিসেবে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আগামী সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যদিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দশম-একাদশের ধারাবাহিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এবারও নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপিসহ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ৩৬টি দল। যার ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতাসীন হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া সারা দেশে নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে ২৯৯ আসনে। ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী ছিলেন ১৯৭১ জন। ভোট নেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল দাবি করেছেন নির্বাচনে ৪০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় অংশই বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে তারা ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত: নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তবে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা নির্বাচন বয়কট করেছে। তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন করছে। ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি ইতোমধ্যে ৬ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি এখন পালিত হচ্ছে। দলটির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী এলডিপি ও জাতীয়বাদী জোট এবং গণফোরাম-পিপলস পার্টি হরতাল কর্মসূচি পালন করছে।