গত কয়েকদিনের টানাবর্ষনের কারনে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ( ডিএনডি) বাধেঁর ভেতরে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। অনেকের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানির নীচে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা ,স্কুল-কলেজ। চরম দুর্ভোগে দিনযাপর করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ডিএনডি জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু তারপর আমাদের দিনের পর দিন পানিবন্দি জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী এলাকার মানুষের পানিবন্দি অবস্থায় অর্বননীয় দুর্ভোগের খবর পেয়ে রবিবার (২ জুলাই) দুপুরে ডিএনডি প্রজেক্টে যান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি ডিএনডি এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুবির্ষহ জীবন যাপন করছেন এমন স্থিরচিত্র তুলে ধরে ডিএনডি প্রজেক্টের কর্মকর্তাদের উপস্থিততে ক্ষোভ ঝড়েন। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। কিন্তু সরকার দুই দফায় ডিএনডির পজেক্টের উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসের জন্য প্রায় ১৩শ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। তারপরও কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি বন্দি থাকবে। তিনি বলেন, আগামী দুই ডিসেম্বরের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ না হলে ময়লা মিশ্রিত পানিতে নেমে র্ধমঘট করবেন বলে ঘোষণা দেন।
প্রকল্প সুত্রে জানাযায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাধেঁর জলাবদ্ধতা নিরসেন কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটিরি কাজের তদারকির দায়িত্বপান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে শেষ হয়নি প্রকল্পটির কাজ। আরো এক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় চায় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনের কারনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, লালপুর , পৌষাপুকুরপাড়, সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী, গোদনাইল, সাহেবপাড়া, মিজমিজি, ডেমরার কোনপাড়া, সানারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পানি জমে মানুষের বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কোথাও হাটুপানি, কোথাও আবার কোমরপানি জমে গেছে। ফলে ওই সব এলাকার কয়েকলাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, এ প্রকল্পের কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৬ বছরেও শেষ হয়নি। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ডিএনডি সংস্কার প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগিদ দেন। অন্যথায় জনগনের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করে তিনি নিজে কালো ময়লা আর্বজনা মিশ্রিত নোংরা পানিতে নেমে ধর্মঘট করবেন বলে ঘোষনা দেন। একই সাথে তিনি ডিএনডির কর্মকর্তাদের কাছে কৈফিয়ত চান কেন মানুষে জলাবদ্ধতার কারনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
জবাবে ডিএনডি প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মাইনুর রহমান জানান, প্রজেক্টের সম্পুন্ন কাজ শেষ করেতে আগামী জুন মাস পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। কভিড ১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারনে বরাদ্ধকৃত অর্থ ছাড় করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। যে কারনে আমাদের ঠিকাদরদে কাজ করিয়ে বিল দিতে গিয়ে কিছুা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারের অর্থমন্ত্রনালয় থেকে আস্বস্ত করা হয়েছে, চলতি জুলাই মাসে বাকি টাকা ছাড় হবে। টাকা ছাড়পেল দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। আমারা প্রকল্পের জন্য আগামী জুন মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছি। কিন্তু আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করবো। এই প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, সেই টাকাতেই প্রকল্প শেষ হবে। আশা করছি বরাদ্ধকৃত টাকার থেকে আরো কিছু টাকা সশ্রয় হবে। তিনি বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আজ বিকেল নাগদ পানি সেচে কমিয়ে আনা হবে। তবে তিনি সংস্কার করা খালে ময়লা আর্বজনা না ফেলার আহবান জানিয়ে বলেন, জনগনে সচেতন হতে হবে। যাতে পানি পাম্প হাউজে আসতে কোন বাধাঁ সৃষ্টি না হয়।
এসময় প্রকল্প তদারকির কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর মেজর গাজী নাজমুল হাসান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আনোয়ার ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ বেপারী, আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব হোসেন, সরকারী তোলারাম কলেজের ভিপি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার রহমান বাপ্পি, তপন মাহমুদ, ইলিয়াস ইসলাম লিয়ন, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবিরসহ ডিএনডি প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।