বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ডান্ডাবেড়ি নিয়ে জানাজায় উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা মো. নাজমুল মৃধা। তবে দাফনের আগেই তাকে আবারও পাঠানো হয় জেলহাজতে। ঘটনাটি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের। নাজমুল মৃধা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। একটি বিস্ফোরক মামলায় গত ১৯ ডিসেম্বর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। শনিবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে প্যারোলে মুক্তির পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ডান্ডাবেড়ি নিয়েই বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন নাজমুল মৃধা। তবে বাবার লাশ দাফনের আগেই তাকে আবারও জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, নাজমুল মৃধার বাবা মোতালেব হোসেন মৃধা (৬৭) নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১২ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৯টায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বাবার জানাজার নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টায় উপজেলার সুবিদখালী সরকারি র. ই. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে থাকলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওই সময়ের আগেই নাজমুলকে আলাদাভাবে নিজ বাড়িতে ছোট্ট পরিসরে জানাজায় অংশগ্রহণ করানো হয়। এরপর বাবার লাশ দাফনের আগেই তাকে আবার জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পুরোটা সময় ডান্ডাবেড়ি পরিধান করা অবস্থায় ছিলেন নাজমুল মৃধা। তার বাবা মোতালেব মৃধাও বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন বেশ কয়েক বছর। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় নাজমুল মৃধাকে। পরে বিস্ফোরক মামলার আসামি করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর শনিবার (১৩ জানুয়ারী) প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন নাজমুল।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আহসানুল্লাহ পিন্টু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন ফরাজী, সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী হাওলাদার ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. জাকারিয়া প্রমুখ।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টার জন্য শর্ত সাপেক্ষে ছাত্রদল নেতাকে জামিন দেন আদালত। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পায়ের ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়া হয়নি।’