সময়মত ঘুম নেই। ঠিক নেই খাওয়ার সময়েরও। শুধু প্রচারণা, গণসংযোগ। ভোটারদের সাথে বেশী-বেশী যোগাযোগ, কুশলবিনিময়। নিজের ভোট প্রার্থনা। এভাবেই প্রায় গত কয়েক মাস যাবত চলছিলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রার্থীদের প্রচারণা। সেই প্রচারণায় গতি পায় গত ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর। সেই থেকে তারা ছুটছেন- এ পাড়া থেকে ও পাড়ায়। এ মহল্লা থেকে ওই মহল্লায়। যাতায়াত বৃদ্ধি করেছেন মসজিদ-মাদ্রাসাসহ ধর্মী উপসানলয় গুলোতেও। নিজেদের লোক নিয়ে মাঝরাত, এমনকি মধ্যরাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন নানা শলাপরামর্শ, কৌশল অবলম্বন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০ টি ওয়ার্ডের অবস্থান সিদ্ধিরগঞ্জে। এ ১০ টি ওয়ার্ডে ৬৬ জন পুরুষ ও ১১ জন মহিলাসহ সর্বমোট ৭৭ জন প্রার্থী তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরমধ্যে নাসিক ১ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম মেম্বার, চুন কারখানার মালিক আনোয়ার ইসলাম, চাল ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন ও আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক বাদশা আলমগীর।
নাসিক ২ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ ইকবাল হোসেন, থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার ভাই আবুল হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল হেকিম, সুমন কাজী, মোঃ গিয়াস উদ্দিন টুলু, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এনায়েত হোসেন।
৩ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও সেভেন মার্ডার মামলার আসামী নুর হোসেনের ভাতিজা শাহ জালাল বাদল, যুবলীগ নেতা তোফায়েল হোসেন, এ আর ফররুখ আহমাদ খসরু, মোঃ আলমগীর হোসেন ও সেভেন মার্ডারে নিহত নজরুলের ভায়রা মহিউদ্দিন মোল্লা।
৪ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান, সেভেন মার্ডার মামলার আসামী সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের ভাই মোঃ নুরুদ্দীন মিয়া, যুবলীগের স্থানীয় নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী ফয়সাল রানা ও সুমন মাহমুদ।
৫ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিনের ছেলে গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল, ব্যবসায়ী মোঃ আনিছুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, রিকাবুল, ইমন, বদিউজ্জামান বদু, জাহিদ হোসেন।
৬ নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন- বর্তমান কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম মন্ডল, এসএম আসলাম ও যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান।
৭ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হলেন- ব্যবসায়ী মোঃ ফজলুল হক জুয়েল, সেভেন মার্ডারে নিহত স্বপনের ভাই মিজানুর রহমান খান রিপন, গোলাম মোহাম্মদ খান গুলু, কাউন্সিলর মরহুম আলী হোসেন আলার সহধার্মিনী রুমা আক্তার, তানজিম কবির সজু, টিপু গাজী, সাব্বির হোসেন, সালাউদ্দিন সানী, আলাউদ্দিন মেম্বার, সারোয়ার ভূইয়া, সবুজ শেখ, মহসিন শেখ, হারুন অর রশীদ, আয়নাল সরকার।
৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন আহম্মেদ, মহসিন ভূঁইয়া, সাগর প্রধান, এডভোকেট মেহবুব হাসান মুন্না ও জুয়েল রানা।
৯ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ইসরাফিল প্রধান, মাসুদুর রহমান মাসুদ, ফারুক মাস্টার।
১০ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন। এ ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত অন্যকোন প্রার্থীর পদচারণা বা প্রার্থী হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ওয়ার্ড তিনটি। ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে (সংরক্ষিত-১) প্রার্থী হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর, শামীম আরা লাভলী, চম্পা ভূইয়া ও আশুরা বেগম।
৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে (সংরক্ষিত-২) প্রার্থী হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা, সুমি বেগম।
৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে (সংরক্ষিত-৩) প্রার্থী হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আক্তার দ্বীনা, সাবেক কাউন্সিলর রেহানা পারভীন, শারমিন শাকিল মেঘলা ও তসলিম ইসলাম নওরীন ভূইয়া।
এই ৭৭ প্রার্থীর রাত ও দিনভর পদচারণায়, প্রচারণায় সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি অলিগলি মুখর হয়ে পড়েছে। তাদের প্রচারণা গুলোতে সঙ্গ দিচ্ছে একনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীরা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে এমন প্রচরণা প্রসঙ্গে ৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানায়, প্রকৃত রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিরা জনসেবা করতে গিয়ে নিজেদের আরাম-আয়েশের কথা ভুলে যায়। নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচারণা চালানোতে বাড়তি পরিশ্রম রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিদের জন্য তেমন কষ্টকর নয় বলে মনে করি। এ উপলক্ষ্যে মানুষের কাছে আরো বেশী যাওয়া হচ্ছে। এতে আগামী জনপ্রতিনিধির জন্য আরো সুবিধা হবে। কেননা জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর তিনি ঐ এলাকাগুলোর সমস্যাগুলো স্মরণে রেখে সেই অনুযায়ী কাজ করবেন বলে মনে করেন কাউন্সিলর প্রার্থী সালাউদ্দিন আহম্মেদ।
নাসিক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর (সংরক্ষিত-৩ নং ওয়ার্ড) আয়েশা আক্তার দ্বীনা বলেন, গত ৫ বছরে নাসিক কাউন্সিলর হয়ে যেভাবে জনগনের কাছে গিয়েছিলাম, সেই যাওয়ার মধ্যে নির্বাচনী প্রচরণার সময় যাওয়ার পার্থক্য রয়েছে। প্রচারণার সময় জনগন তাদের অভিযোগ-অনুযোগগুলো বেশী প্রকাশ করতে পারে। যা নির্বাচনের পরে একজন জনপ্রতিনিধি অভিযোগ-অনুযোগগুলোর সমাধান করতে সহজ হয়। এতে করে এখনকার চাপ বা কষ্টকে আমি কষ্ট মনে করি না। বরং এ কষ্ট পরবর্তীতে একজন জনপ্রতিনিধির জন্য উপকারই হবে বলে মনে করেন নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দ্বীনা।