বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে, কিন্তু তা চর্চার সুযোগ পায়নি। বারবার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিই একসময় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনই একমাত্র বিকল্প। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সংলাপে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাষ্ট্র মেরামতের জন্য যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, সেটির মূল উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের সব উদ্যোগ বিএনপিই শুরু করেছে। ভিন্নমত থাকবেই, সবাই একমত হবে না। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়েও ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হবে, তারা সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিআর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। সাধারণ মানুষ এখনো এ ধারণা বোঝে না। জনগণকে আগে প্রস্তুত করতে হবে, বোঝাতে হবে। এরপরই এ ধরনের পরিবর্তন টেকসই হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সব ফ্যাসিস্টবিরোধী শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনই এখন সময়ের দাবি।
সংলাপে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেনসংগঠনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর ও সংলাপ সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মামুন আহমেদ। সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত প্রমুখ।