নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন কানাডার রয়েল মাউন্টেড পুলিশের দুই সদস্য কেভিন ডু¹ান ও লয়েড শোয়েপ। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তারা বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্রে কাজ পেতে কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্স লিমিটেড ঘুষ লেনদেন করেছে। ঘুষের অর্থ কানাডা থেকে বারবাডোজ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান তাদের সাক্ষ্য নেন। গত ১৯ অক্টোবর তাদের সাক্ষ্য দিতে সমন জারি করেন ঢাকার বিশেষ আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া ও হান্নান ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রথমে সাক্ষ্য দেন লয়েড শোয়েপ। তাঁকে আসামিপক্ষের জেরা করা শেষ হয়। এরপর সাক্ষ্য দেন কেভিন ডু¹ান। তাঁকে জেরা শুরু হওয়ার পর আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) আবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়।
সাক্ষ্যে লয়েড শোয়েপ বলেন, কানাডার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি নাইকোতে তৎকালীন সরকারের কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতি করতে ইন্ধন জোগায়। আমরা এ দুর্নীতির বিষয়ে জানতে পারি গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে। নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে নাইকো রিসোর্সেস কানাডায় দুর্নীতির দায়ে সাজপ্রাপ্তও হয়েছে। এরপরে তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। অন্যজনকে আগামীকাল জেরা করা হবে।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অন্য সাত আসামি হলেন- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।