ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখন আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
আজ শুক্রবার রাজধানীতে এবি যুব পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, ‘রক্তের স্রোতের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা এসেছে, সেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি ফেরার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা দেখছি, ক্ষমতার জন্য কেউ কেউ আবার সেই পথে হাঁটছে। এটা দেশের জন্য অশনিসংকেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যে-ই ক্ষমতায় যায়, সে-ই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। এতে দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায়, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।’
ঢাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন।
আলোচনা সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আগে আমরা ভয় আর নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম। এখন আমরা এক নতুন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। এই বিপ্লবে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু কোনো দলের নেতার সন্তান নিহত হয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের জাগিয়ে তুলেছে। এটা ছিল বিবেকের বিপ্লব।’
তিনি বলেন, ‘দুঃশাসনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয়নি। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অহংকার জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। ক্ষমতার চক্র একটা চাঁদাবাজির পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।’
সভায় বক্তারা বলেছেন, গত বছরের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণবিক্ষোভে যে আশা ও প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল, এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক কিছুর বাস্তবায়ন হয়নি।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম ও লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, শহীদ ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ, খেলাফত যুব মজলিসের জাহেদুজ্জামান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আদনান আহমেদ, বিপ্লবী যুব সংহতির মীর রেজাউল হক, যুব সংহতির হারুন-অর রশিদ, যুব মজলিসের তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, জাতীয় যুব শক্তির ডা. জাহেদুল ইসলাম, যুব জাগপার নজরুল ইসলাম বাবলু ও ইসলামী যুব সমাজের মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান।
মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘জুলাই পক্ষের শক্তিগুলো যদি বিভক্ত থাকে, তাহলে স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এক বছর পার হলেও এখনও কোনো বিচারের রায় হয়নি—এটা জাতির প্রতি অবমাননা।’
ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের অনেক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ঘোষণাগুলো বাস্তবায়ন না হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।’
নজরুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। একতার অভাবে আমরা এখনও জোট গঠন করতে পারিনি। ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ যুব সমাজ গড়ে তোলা হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, যুবকদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে।’
আলোচনা সভায় এবি পার্টির আরও যারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, নারী উন্নয়ন সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার, ছাত্রপক্ষ সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক ও জনকল্যাণ সম্পাদক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, যুব পার্টির দপ্তর সম্পাদক আমানুল্লাহ রাসেল, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শিলা, গাজীপুর জেলার আহ্বায়ক মাসুদ জমাদ্দার রানা, সহকারী অর্থ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।