আমাদের পাকস্থলী থেকে নির্গত এসিড লোহা পর্যন্ত গলিয়ে ফেলতে পারে! এই এসিডের এক ফোঁটাও যদি গায়ে পড়ে,চোখের পলকে গলে যাবে মাংসপেশি। কিংবদন্তি হাইড্রোক্লোরিক এসিড। তীব্রতার দিক থেকে এই এসিড রয়েছে সক্রিয়তার প্রথম সারিতেই!
দৈনন্দিন জীবনে এই এসিড ব্যবহ্রত হয় পুরনো লোহার মরিচা পরিষ্কার করতে।এছাড়া শক্তিশালী টয়লেট ক্লিনারের অবিচ্ছেদ্য উপাদান এই এসিড। আমাদের পাকস্থলীতে এক দিনে প্রায় দুই লিটার হাইড্রোক্লোরিক এসিড তৈরী হয়।
তাহলে এই এসিড আমাদের পাকস্থলীকে গলিয়ে ফেলে না কেন? আমরা যখন খাবার খাই, তা হজমের জন্য কিছু এনজাইমের দরকার হয়। খাবারের স্বাদ বা গন্ধ পেলেই পাকস্থলী এনজাইমসহ যপষ এসিড রিলজ করে। এনজাইম সমেত হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণকে বলা হয় গ্যাস্ট্রিক জুস।
পাকস্থলীর প্রাচীরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থাকে। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। পেরিসস্ট্যালসিস অর্থাৎ পাকস্থলীর পেশি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুকে পিষে মন্ডে পরিণত করে।
আমরা প্রতিনিয়ত খাবারের সঙ্গে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস খেয়ে ফেলি। এই ক্ষতিকর অনুজীবগুলো ধ্বংস করাই মূলত হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রধান কাজ। নয়ত আজীবন আমাদের ভুগতে হত ডায়রিয়া, কলেরার মত ইনফেকশনে।
এছাড়া খাবারের প্রোটিন অংশটি হজম করার কাজও এই এসিডের। অথচ একবার হাতে পড়লে এই এসিড পেশি ছিদ্র করে বেরিয়ে যেতে পারে। এতটা শক্তিশালী হলেও এই এসিড পাকস্থলীর কোন ক্ষতি করে না। কারণ আমাদের পাকস্থলীর ভেতরের প্রাচীর এক বিশেষ কোষ দ্বারা আবৃত। কোষগুলো মিউকাস ক্ষরণের মাধ্যমে পাকস্থলীর নিরাপদ স্তর তৈরী করে রাখে। কিন্তু সময়মত খাবার না খেলে রীতিমতো ঘটে দূর্ঘটনা! খালিপেটে অব্যবহ্রত হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যনালি দিয়ে উপরে উঠে আসে।খাদ্যনালিতে মিউকাস স্তর না থকায় বুক জুড়ে হয় তীব্র জ্বালাপোড়া।
আবার যারা অতিরিক্ত চা-কফি, অ্যালকোহল আর ঝাল খাবার খায় তাদের পাকস্থলীতে অতিরিক্ত মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড রিলিজড হয়। যা খুব সহজেই মিউকাস স্তর ক্ষয় করে পাকস্থলীতে ঘা সৃষ্টি করে। পাকস্থলীর এই অবস্থাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় আলসার।
আবার বয়স, স্ট্রেস কিংবা ওষুধের প¦ার্শপ্রতিক্রিয়ায় অনেক সময় হাইড্রোক্লোরিক রিলিজের মাত্রা কমে যেতে পারে। তখন দেখা দিতে পারে তীব্র আয়রণ ঘাটতি এবং রক্তশূন্যতা।একই কারণে দেখা দিতে পারে ভঙ্গুর নখ, দুর্বলতা আর দুশ্চিন্তা।