গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। এ কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এই সময় গর্ভবতী নারীর উচিত স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত যত্ন নেয়া।
গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের উহান শহরে তিনমাসের নয় জন গর্ভবতী নারী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে নিউমোনিয়ায় ভুগেছিলেন। তবে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়নি এমনকি তাদের শিশুরাও সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করেছিল। গর্ভের শিশুর ক্ষেত্রে করোনায় সংক্রমণের প্রবণতা খুব কম বলে ধারণা করা হয়।
তবুও যাতে শিশুর কোনো রকম ক্ষতি না হয় এজন্য গর্ভকালীন সময় মানা জরুরি বেশ কিছু নিয়ম। মাদার্স ল্যাপ আইভিএফ সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর এবং আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. শোভা গুপ্তার মতে, গর্ভাবস্থায় কোভিড-১৯ নিয়ে চিন্তার বড় একটি কারণ হলো যখন গর্ভবতীরা ফ্লুতে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গর্ভবতী মায়ের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। এছাড়াও ভ্রূণ, জরায়ু, ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গগুলো বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে থাকে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ফুসফুসের কিছু অঞ্চল বায়ু সঞ্চালনে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে করে গর্ভবতীদের সংক্রমণের ঝুঁকির প্রবণতা আরো বেড়ে যায় বলে জানান শোভা গুপ্তা।
এই সময় আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে কী করবেন?
করোনার এই সময় যদি আপনি কাশি, জ্বর বা শ্বাস নিতে অসুবিধার লক্ষণে ভুগেন তবে অবশ্যই জরুরি নম্বরে ফোন করবেন। এছাড়াও আশেপাশের হাসপাতালে যোগাযোগ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিরাপদে থাকার উপায়
এই সময় সাবধান ও নিরাপদে থাকার বিকল্প নেই। সংক্রমণ এড়াতে ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। যদি কোনো কারণে আপনি ঘর থেকে বের হন তবে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। কখনো মুখে থাকা মাস্কটি স্পর্শ করবেন না। ঘরে ফিরে কানের পাশ থেকে মাস্কটি খুলে ততক্ষণাৎ ফেলে দিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আপনাকে কমপক্ষে এক মিটার দূরে থাকতে হবে।
সংক্রমণ সম্পর্কে জানুন
করোনাভাইরাসের বিভিন্ন লক্ষণ সম্পর্কে জানুন। যদি আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকেন তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সেই সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা ও শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ সম্পর্কে বিশেষত সচেতন হওয়া উচিত।
প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিশ্চিত করুন
কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রতিদিন কয়েকবার সাবান দিয়ে আপনার হাত পরিষ্কার করুন। এছাড়াও হাত পরিষ্কারের জন্য অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
নিয়মিত অনলাইন চেক-আপ
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ শিশু এবং আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো সম্ভাব্য বিপদ হ্রাস করতে পর্যায়ক্রমে আপনার চেক-আপ করা প্রয়োজন। তবে করোনার সঙ্কটের এই সময়ে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করলেও নিয়মিত অনলাইনে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন
এই সময় হাত ভালো করে না ধুয়ে আপনার মুখ, চোখ, নাক এবং কান স্পর্শ করবেন না। যদি বারবার মুখে হাত দেয়ার অভ্যাস থাকে। অবিলম্বে তা পরিবর্তন করুন। এটি গর্ভের শিশুর পক্ষেও ক্ষতিকারক হতে পারে।
যথেষ্ট ঘুম
গর্ভাবস্থায় শরীর এবং মনকে শক্তিশালী রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আপনার গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য বিশ্রামের মুহুর্তগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং নিজের ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান।
সুষম খাদ্য
গর্ভাবস্থায় ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা অনেকটাই হ্রাস পায়। তাই গর্ভবতী মায়ের এই সময় প্রয়োজন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। আপনি যা খান তা থেকে আপনার শিশুরও পুষ্টির যোগান দেয়।
গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুর যথাযথ পুষ্টি সরবরাহের জন্য আপনার সুষম ডায়েট প্রয়োজন। সঠিক ডায়েট এবং সব ধরণের ভিটামিন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সূত্র: ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস,ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।