মানুষের ঘরে এখন খাবার নেই। তাদের কাজই তো নেই। বাইরে যাওয়া মানা। ফলে শহর ও গ্রামের মানুষকে দানের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের এই ছাত্রছাত্রীরা করোনাভাইরাসের আক্রমণ পায়ে ঠেলে হাঁটছেন। তাদের কর্মতৎপরতা নিয়ে লিখেছেন এস কে শাওন
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সারা দেশে তাদের কর্মী আছেন চার হাজারেরও বেশি। ৩২টি জেলায় নিয়মিত কাজ করেন, কিন্তু করোনাভাইরাসে সারা দেশ লকডাউন, মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। রোগের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন ঘরে বসে। ফলে অভিযাত্রিকের করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে আছেন ২০০ স্বেচ্ছাসেবক। কাজও করছে বিরাট এই ফাউন্ডেশন মাত্র আটটি জেলার নানা প্রান্তে ঢাকা, পটুয়াখালী শহর, এই জেলার গলাচিপা ইউনিয়ন, রংপুর শহর, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামে। সে কাজের শুরু ১৯ মার্চ।
কাজ করেছেন নানা জেলার আনাচ-কানাচে
এ কাজের শুরু থেকে ধাপে ধাপে ঢাকার ৫০০ ও রংপুরের ৩০০ দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব রাখতে হ্যান্ড মাইকে মাইকিং করেছেন তারা। কেন এ কাজ প্রশেড়বর জবাবে অভিযাত্রিক দলের নেতা ও ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বললেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে অনেক দেরিতে কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে যতটা ভয়াবহভাবে রোগটি ছড়িয়েছে, এখানে সেভাবে ছড়ায়নি। এখনো বাংলাদেশে সংক্রমণের সংখ্যা খুব কম। রোগটি ছড়ানোর শুরুর দিক থেকেই এই করোনাভাইরাস সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেকের কোনো ধারণাই ছিল না। সেজন্য মানুষকে জানাতে আমাদের ফাউন্ডেশন শুরু থেকে ফেইসবুক পেজে নানা ধরনের সচেতনতা পোস্ট দিয়ে চলেছে। আছে কভিড-১৯ রোগের উপসর্গ, কীভাবে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যায়, রোগের চিকিৎসা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানে সবকিছু নিয়ে পুরোপুরি আলাদা থেকে নিজের পাশাপাশি অন্যদের জীবন বাঁচিয়ে রাখার উপায় ইত্যাদি।’ আরও কাজ করতে এ বছরের ২৬ মার্চ তারা ছিলেন রংপুরে। সিটি করপোরেশন এলাকাতেই অভিযাত্রিকের সেখানকার সদস্যরা সারা দেশের সদস্যদের সাহায্যে জীবাণুনাশক ও স্প্রে জোগাড় করে মেডিকেল মোড়, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানির মোড়, সুপার মার্কেট এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করেছেন। বিভিণ্ণ দোকান, ব্যাংকের এটিএম বু, বাজার, হাসপাতাল ইত্যাদি খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন সারা দিন খেটে, খুব কষ্ট করে। তাদের দেখে অনেকে সচেতন হয়েছেন। পথে-ঘাটে চলাফেরা করা যেসব মানুষ নিজেদের বাসার জন্য জীবাণুনাশক নিতে চেয়েছেন, তাদেরও বোতলে করে আলাদা জীবাণুনাশক দিয়েছেন ভালোবেসে। সাতটি দিন টানা এভাবে খুব কষ্ট করে রংপুরের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করেছেন। একেবারে দূরের জেলা, দুর্গম যোগাযোগের পটুয়াখালীর রাঙাবালীর চালতাবুনি ইউনিয়নে আছে অভিযাত্রিক স্কুল, চরলতা শাখা। রাঙাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে একের পর এক পাঁচটি দিন করোনাভাইরাসের বিপক্ষে প্রধান অস্ত্র সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করেছেন তারা। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অভিযাত্রিকের স্বেচ্ছাসেবকরাও এভাবে সাতটি দিন মাইকিং করেছেন। তাতে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর মানুষরা বিশ্বজুড়ে সর্বগ্রাসী কভিড-১৯ রোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেছেন, নিজেরা সচেতন হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার প্রধান অফিস থেকে ফাউন্ডেশন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সচেতনতার কথা ছড়িয়ে মাইকিং করেছে। নিয়মিত আপলোড করেছেন তারা ফেইসবুকে সবগুলো কার্যক্রম। একেবারেই সাধারণ মানুষরা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে তাদের বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন। ৩০টি হাত ধোয়ার কল, বেসিন তাদের তৈরি করে দিয়েছেন বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনেটা লিমিটেড। আরও ১৫টি হাত ধোয়ার পূর্ণ সুবিধাসহ হ্যান্ড ওয়াশিং বু তৈরি করেছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন নিজেদের টাকা ও নানা মানুষের দানে। তাদের হ্যান্ড ওয়াশিং বু আছে মিরপুর আবাসিক এলাকার আবাসিক মসজিদ, পল্লবী থানার সামনে, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডির পার্টি সেন্টার রোড ছাড়াও বিপণি-বিতানগুলোর মুখ, দোকানের পাশে, বাসস্ট্যান্ডে, ফার্মেসি, মসজিদের সামনে, এটিএম বুগুলোর সামনে। প্রতিটি হাত ধোয়ার স্থানের দায়িত্বে আছেন একজন দায়িত্বশীল নাগরিক।
তৈরি হলো প্রাইম এশিয়ায় ফ্রি হ্যান্ড স্যানিটাইজার
আমাদের দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট হয়েছে। তখন অভিযাত্রিকের বন্ধুরা পরিকল্পনা করেছেন, ২ হাজার বোতল ১০০ মিলিলিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। ঢাকার প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল গণির সঙ্গে দেখা করে আলাপ করলেন তারা। তিনি বিভাগের কয়েকজন অধ্যাপককে নির্দেশ দিলেন। স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক ও বন্ধুদের মাধ্যমে জোগাড় হয়ে কাজ করতে এলো। তাদের ফার্মাসি অনুষদের গবেষণাগারে স্যানিটাইজার তৈরির কাজ শুরু হলো। প্রয়োজনীয় উপকরণ ফাউন্ডেশনের তহবিলের টাকা দিয়ে কেনা হলো। এরপর দুই হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হলো। ৫০০ বোতল ফ্রি বিলি করা হলো বিভিনড়ব ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষীদের। বাসের কন্ডাক্টরদের দেওয়া হলো বিনা খরচের ২০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৩০০ বোতল পেলেন পথে-ঘাটে, বস্তিতে থাকা পরিবার। এক হাজার বোতল পেলেন চিকিৎসকরা।
খাবার চেয়ে নিয়ে দিচ্ছেন উপহার
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রধান স্বেচ্ছাসেবক আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বললেন, ‘লকডাউন শুরু হওয়ার আগেই সারা বাংলাদেশে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার ও বিত্তবানরা নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছেন। আমরা বসে থাকিনি। প্রম দিন থেকে আজও মানুষকে ফ্রি খাবার দিয়ে চলেছি।’ ৩১ মার্চ প্রম বিলি করা হলো তাদের বিনামূল্যের খাবার প্রদান। মিরপুরের কালশীতে কম আয়ের গরিব ১০০ পরিবারে খাবার দিল অভিযাত্রিক। তাদের এই খরচের টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছেন ‘জেসিআই ঢাকা ইয়ং’। এরপর টানা চলছে অনন্য এই মানবসেবা। ৩১ মার্চ রংপুর বিভাগের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বিভিনড়ব গ্রামের একেবারে গরিব ১০০ পরিবারকে খাবার বিলি করেছেন তারা। প্রতিটি স্থানে খাবার বিতরণের নিয়মতান্ত্রিক উপায় অবলম্বন করেছেন। ফাউন্ডেশনের বন্ধুরা সেই জায়গাগুলোতে ঘুরে ঘুরে পরিবারগুলো বেছে তাদের বাড়িতে টোকেন দিয়ে আসছেন প্রম থেকে। তারপর করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। ২০টি করে পরিবারকে প্রতিবার খাবার দিচ্ছে ফাউন্ডেশন। ৩১ মার্চ তারা একটি খবর দেখলেন, পটুয়াখালীর কয়েকটি দৈনিকে। দুমকি উপজেলার ‘কোয়ারেন্টাইনে বৃদ্ধ সোবহান, বেঁচে আছেন শুধু পানি খেয়ে’। খবরটি পড়ে চমকে গেলেন সবাই। সারা দেশ অঘোষিত লকডাউন চলছে, তিনি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। আশপাশের সব দোকান বন্ধ। ফলে খাবার শেষ হয়ে গেল। পানি খেয়ে সাতটি দিন কোনোভাবে জীবন বাঁচিয়ে রাখলেন সোবহান হাওলাদার। ৬৫ বছরের এই মানুষটির বেদনার খবরটি পড়েই ঢাকা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী শাখার সদস্য জহিরুল ইসলাম, হাসিবুর রহমান ও আসলাম উদ্দিন। অনুমতি পেয়ে ছুটে গেলেন তারা তার জীর্ণ ঘরে। নিজেদের পকেট থেকে এই তিন ছাত্র তরকারি, শুকনা খাবার ও ফল কিনে দিয়ে এলেন। মানবতার পাশে দাঁড়ানোর এই খবর পত্রিকাগুলোতে ছাপা হলো। ফলে জেলার পুলিশ সুপার মাইনুল হাসান, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার রায় ও উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার আল-ইমরান তার ঘরে ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। এই তিন স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে খোঁজ নিলেন পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক। পরে তিনি সিদ্ধান্ত দিলেন, সরকার নিজের খরচে তাকে থাকার ঘরটি তৈরি করে দেবে। তার জীর্ণ ঘর এতই পুরনো জোর বাতাসে ভেঙে পড়বে।
হঠাৎ পাওয়া ভালোবাসা
৫ এপ্রিল অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনকে বিস্মিত করল বাংলাদেশের বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুত প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেড। প্রম দফায় ১ এপ্রিল এক হাজার পরিবারকে ১৫ দিনের খাবার দেওয়ার টাকা দান করলেন তারা। ৫ এপ্রিল নিজেদের ফার্মেও রেনাটা এগ্রোর ১২ হাজার ডিম ফাউন্ডেশনের মিরপুর অফিসে পাঠিয়ে দিলেন। প্রতিটি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটের সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে একডজন করে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও উনড়বতমানের ডিম উপহার হিসেবে দিতে অনুরোধ করা হলো। তাতে তারা আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা খুব ভালোভাবে এবং সহজে মেটাতে পারবেন। অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ইমতিয়াজ জামি এই মহৎ উদ্যোগের জন্য রেনাটা লিমিটেডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানালেন, ‘দুর্যোগে, দুর্দিনে ও আর্তমানবতার সেবায় বিখ্যাত ও প্রম সারির এমন প্রতিষ্ঠানগুলো সামর্থ্য অনুসারে এগিয়ে এলে বাংলাদেশের গরিবের সুদিন ফিরে আসবে।’ ফাউন্ডেশনের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষক আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড দুই হাজার পরিবারের খাদ্য সাহায্যের টাকা দিয়েছেন। সেই টাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের দুই হাজার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে খাবার। প্রতিবারই তারা যে নানা জায়গায় খাবার ও সামগ্রী পৌঁছে দেন, পরিবারগুলো সাধারণত নিমড়বআয়ের পরিবার। তাদের বাড়িতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের নামের তালিকা সংগ্রহ করেন। এবারও সেভাবেই কাজ করছেন সবাই। সাধারণ মানুষের দানও পেয়েছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। জামি বললেন, ‘এমন প্রায় এক হাজার মানুষ আছেন, যারা আমাদের ১০ টাকা হলেও পাঠিয়েছেন।’
তারাই আমাদের আগামীর প্রাণ
হোন্ডা শেয়ারে চালানো এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিখ্যাত ও কার্যকর পেশা। লকডাউনে বাইরে বেরোনো মানা। ফলে এই পরিবারগুলো না খেয়ে আছে। ‘পাঠাও’ ও হাংরি নাকি’ নামের দুটি জনপ্রিয় শেয়ার মাধ্যম একটি হোন্ডা শেয়ার ও অন্যটি খাবার শেয়ার সার্ভিস বা সেবা। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ৫০০ পরিবারকে নিজেদের উদ্যোগে খাবার বিলি করেছে অভিযাত্রিক। আর ১৩ মার্চ থেকে প্রতিদিন রংপুর শহর ও লালমনিরহাটে স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে দিনমজুর শ্রেণির ২০০ জন মানুষকে রানড়বা করে সেখানেই খাবার খাইয়ে চলেছেন তারা। ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজার ও চরলতার অভিযাত্রিক স্কুলগুলোতে সাড়ে ৪০০ ছাত্রছাত্রী আছে। তারা সবাই গরিবের ছেলেমেয়ে। তাদের লেখাপড়ার জন্য অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন বিদ্যালয় করেছে, পড়ালেখার সব খরচ দিচ্ছে নানা মানুষের দান ও সাহায্যে। মহামারী রোগের হাত থেকে বাঁচতে এই গরিবের কোমল, ছোট ছেলেমেয়েরা বাড়িতে আছে। তাদের মা-বাবার কাজ নেই। ফলে প্রতিটি পরিবারকে প্রম দফায় ৭ এপ্রিল ১৫ দিনের খাবার দিয়েছে ফাউন্ডেশন। জামি জানালেন, ‘সবই জনগণের দেওয়া টাকা।’ লজ্জায় কারও কাছে কিছু চাইতে না পারা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও দুর্দিনে। তাদের জন্য ফেইসবুকে আছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সাহায্য ফরম (https://www.facebook.com/obhizatrik/photos/a.11374840545 8311/1590694184430385/?type=3&av=109023742597444&eav=AfaQyMm22RhecewRs5748P 8NuRxZGquZF2ibh03rYfv8a67C2S4P10cbIq5 8mujOwAI&theater&ifg=1)। তারা সেগুলো প্রয়োজনে পূরণ করছেন। নাম, পরিচয় চাইলে গোপন রাখতে পারছেন। এভাবে প্রতিদিন ৫০ পরিবারে (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীতে গোপনে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ফাউন্ডেশন। হোম ডেলিভারির এই সার্ভিসটি বিনা খরচে স্বেচ্ছাসেবায় করে দিচ্ছে আরডিএক্স ডেলিভারি (তাদের ফোন নম্বর : ০১৩০৬৬৮০৪০৪)। করোনা মহামারী রোধে, তার বিপক্ষে সামনের সারির যোদ্ধা অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন সবভাবে ৯ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে খাবার বিলি করেছে। টার্গেট করেছিল ১০ হাজার। তারা প্রতিটি পরিবারে গড়ে ১৫ দিনের খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। প্রতিটি খাবারের থলেতে থাকছে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু, দুই কেজি পেঁয়াজ, পাঁচ কেজি ডাল, এক লিটার তেলের বোতল, এক কেজি লবণের প্যাকেট, এক বক্স খাবার স্যালাইন, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ৫০০ গ্রাম গুড়, সাড়ে ৭০০ গ্রাম করে দুটি সাবানের প্যাকেট ও দুটি মাস্ক। উপহার পৌঁছেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর শহরে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে, পটুয়াখালীর রাঙাবালী উপজেলা পরিষদ চত্বর ও খাগড়াছড়ির পাহাড়গুলোতে বসবাস করা মানুষদের মধ্যে। আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বললেন, ‘আমাদের খাবার সবার কাছে যাচ্ছে, কিন্তু খুব বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে। আমাদের মাত্র ২০ জন করে দল কাজ করতে পারছে এখন। অন্যদের মতো আমিও ভোর সকালে বেরিয়ে যাচ্ছি, করোনার ভয়াবহতা বুকে নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরে বাইরে কাজ করছি। এরপর রাত জেগে পরের দিনের কর্মপরিকল্পনা করে কাজ গুছাচ্ছি। আমরা দেখেছি, এখন মানুষের অভাব খুব বেশি। ৫০০ জনকে খাবার দিতে গেলে দুই হাজার জন চলে আসছেন। তাদের ফেরাতে কানড়বা পাচ্ছে। গালমন্দ শুনছি। তাদের জন্য আবার করোনাভাইরাস-প্রতিরোধী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। সে কাজও খুব কঠিন। আমাদের বাংলাদেশের মানুষ তো এই রোগে অভ্যস্ত নন, এ আমাদের রোগ নয়। আর কেবল রংপুরেই আমরা পুলিশের সাহায্য পাচ্ছি।’ আরও বলছেন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট, ‘আমাদের ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। লকডাউন ও কাজ না থাকায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের ঘরে খাবারের অভাব আছে। আমরা তাদের পাশে থাকব। পবিত্র রমজান মাসে আরও ১০ হাজার পরিবারকে ১৫ দিনের খাবার দেব। এ সময় দুই লাখ মানুষকে ইফতার ও সাহরি খাওয়ার ব্যবস্থা করব। ঈদে সালামি ও খরচের টাকা দান হিসেবে তুলে রোজার ঈদের পর ১ লাখ পরিবারের ১৫ দিনের খাবার দেব। এক হাজার পরিবারকে আমাদের অনন্য ‘সক্ষম প্রকল্প’র অধীনে সারা জীবনের জন্য নিজের আয়ের পথ করে দেব। তাদের জন্য মুদি দোকান, মাছের খামার, সেলাই মেশিন, মুরগির খামার ইত্যাদি প্রকল্প আছে। এখন দান ও সাহায্য প্রয়োজন।’ তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ দিলেন সাহায্যকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের, ‘এখন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা জীবনকে হাতে নিয়ে কাজ করছেন। তাদের কাছে আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। এই মানুষদের জন্য দোয়া করি। তাদের মতো সবাই দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে গরিব ও কম আয়ের মানুষের পাশে থাকলে বাংলাদেশের উনড়বতি হবে। না খেয়ে এখন কাউকে থাকতে হবে না। মহামারীতে মরতে হবে না।’