করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে থেকেই সংগঠনটি সক্রিয় দেশের প্রায় সব জেলায়। চিকিৎসকদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’ সংক্রমণের মধ্যে ১১ জেলায় কাজ করছে। তাদের কথা লিখেছেন এস কে শাওন
শুরুতে করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি কাজ করে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই।
কিন্তু সংক্রমণের মধ্যে বাইরে বেরুনোর সুযোগও সীমিত। স্বেচ্ছাসেবীদের মা-বাবারা খুব সচেতন। স্বেচ্ছাসেবকদের গতিবিধি কমে যায়। এরই মধ্যে দরিদ্র এলাকা, নানাভাবে দুর্ভোগের শিকার-কর্মহীন মানুষের জন্য তারা কাজ করছে দেশের ১১টি জেলায়। ফেইসবুক পেজে তাদের কাজের আপডেট থাকে, নানা ধরনের সহযোগিতার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ডা. নাজমুল ইসলামের আর্তিও ছড়ায় মানুষের মনে। তারা সাড়া দেন তাদের ডাকে। চিকিৎসক, দয়াবান মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ছাত্রছাত্রী সবার মিলিত উদ্যোগে তারা রাজধানী ঢাকা, আশপাশের সাভার, মানিকগঞ্জ জেলা, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুঁড়িগ্রাম, নীলফামারী ও ভোলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ডা. নাজমুল বললেন, ‘আমরা মোট ১২০ জন পুরোদমে কাজ করছি করোনাভাইরাসের প্রকোপের পর।
আমাদের কাজগুলো নানামুখী। মানুষকে সাহায্য করতে কোথাও পিছিয়ে যাইনি আমরা। চিকিৎসকদের মাধ্যমে, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, শিক্ষক, চিকিৎসাকর্মী; বিভিন্ন নামকরা হাসপাতালের চিকিৎসক, অধ্যাপকদের মাধ্যমে এই জেলাগুলোতে মোবাইল ফোনে এবং স্বেচ্ছাসেবায় সরাসরি গিয়ে; ওই এলাকার চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে নিখরচার মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে এবং ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাদান করছি। জেলাগুলোর অভাবী ও কর্মহীন এবং অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নানাভাবে টাকার খাবার বিলিয়েছি। তারও আগে লিফলেট তৈরি করে বিলি করেছি। সেগুলোতে লেখা ছিল করোনাভাইরাস কী, কীভাবে মানুষ আক্রান্ত হন ও বাঁচতে পারেন। সব শ্রেণির অভাবীদের মধ্যে বিলি করেছি আমাদের সিরাজগঞ্জ ও সাভার শাখার নারীকর্মীদের তৈরি মাস্ক। এই ফেইস মাস্কগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মানুযায়ী তৈরি। আমি নিজে তদারকি করেছি। এই কাজ এখনো নিয়মিতভাবে চলছে। তাছাড়াও নানাভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকা চিকিৎসকদের পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইকুপমেন্ট বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ) বিলি করছি আমরা বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে। করোনাভাইরাসের আক্রমণ বাড়ার পর পিপিই জোগাড় করতে পারেননি এমন মোট ১২৫ জন চিকিৎসককে পিপিই দিয়েছি। হাসপাতালে থাকা ৮০ জন চিকিৎসকের এক মাসের খাবার দিয়েছি। রেনেটা লিমিটেডের টাকায় জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ১২ জন চিকিৎসকের এক মাসের ইফতার ও সাহরি কিনে দিয়েছি। ’
সাভারে কর্মযজ্ঞ
বেশ নামকরা, উদ্যোগী ও হার না মানা ডা. নাজমুল ইসলামের এই সংগঠন। তিনি যে কোনো কিছুর পেছনে লেগে থাকার এক দারুণ গুণ অর্জন করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছ থেকে। তাকে দেখে শিখেছেন অনেক। এবার তারা এই মহামারীর বিপক্ষে যুদ্ধ শুরু করেছেন ১৫ মার্চ থেকে। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে আসার শুরু থেকেই। তাদের ক্যাম্পাস ও নিজেদের বিনা পয়সার গরিবের বিদ্যালয় অ, আ, ক, খ-এর পাশের সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর উপজেলা, বাইপাইল, জিরানী, আশুলিয়া উপজেলায় একে একে অনেক গরিবের এলাকায়, কর্মস্থলে ছিটিয়েছেন জীবাণুনাশক। সেগুলো নানাভাবে জোগাড় করেছেন তারা। নিজেরা তৈরিও করেছেন। বাস, টেম্পো, রিকশা কোনোকিছুই কাজের বাইরে রাখেননি কর্মপ্রাণ এই সংগঠনের কর্মীরা। এই ঘটনা খুব সাড়া ফেলেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের প্রাণকেন্দ্র সাভারে। যেখানে গরিব, অভাবী নারী শ্রমিকদের বসবাস। পেয়েছেন বাহবাও। আরও কাজ করতে উৎসাহও পেয়েছেন।
এরপর নিজেরা প্রস্তুতি নিতে লাগলেন নতুন করে। এ এক মরণপণ লড়াই। খাবার কিনতে লাগলেন দানের টাকায়, নিজেদের সবটুকু দিয়ে। ১৯ মার্চ গেলেন ঢাকার মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আসাদ গেইট এমনকি বিত্তবানের এলাকা ধানম-িতে। সঙ্গে খাবারের প্যাকেট। আগেই বন্ধুবান্ধব, গণবিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক, শুভার্থীদের মাধ্যমে জেনেছিলেনএলাকাগুলোতে গরিব রিকশাওয়ালারা খুব অভাবে আছেন। ছাত্রছাত্রী, তরুণ, বৃদ্ধ, নারীরাই তো তাদের প্রধান আয়ের উৎস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তারা রোজগারহীন। ফলে বাসায় বা পথে অলস বসে আছেন প্রায় সবাই। ‘আমরা আলাদা করে ফেলেছিলাম কাদের বেশি প্রয়োজন। তাদের পাঁচ, সাতদিন চলার মতো খাবার দিতে পেরে, পরিবারগুলো বাঁচিয়ে কী যে শান্তি পেয়েছি’ বললেন ডা. নাজমুল। জনপ্রতি পরিবারের জন্য পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি তেল, এক কেজি আলু, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি লবণ, দুই কেজি চিঁড়া, এক কেজি ডাল ও গায়ে মাখার একটি করে সাবান বিলি করেছেন।
এতিমখানায়
বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পপতি শেখ আকিজ উদ্দিন। তার জীবনের গল্প, নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরির শ্রম, ঘামের কাহিনী, অসাধারণ উদ্ভাবনী শক্তি ও দূরদর্শিতার গল্প আজও কতশত মানুষকে উদ্দীপ্ত করে, তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অথচ কত আগে দূর নক্ষত্র হয়ে গিয়েছেন তিনি। তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কত মানুষের রুজির উৎস হয়েছে সেটি গণনার বিষয়। রমজানে ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের পাশে ছিল আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। কোনোভাবে তারা জেনেছিলেন এই উদ্যমী ছেলেমেয়েদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টার গল্প। দাগ কাটল তাদের মনে। ফলে মোট ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিরাট চেক লিখে দিলেন তারা। এই টাকায় অনেক পরিবার ও এতিম ছেলেমেয়েদের এক মাস খাইয়েছেন তারা। ডা. নাজমুল ইসলাম বললেন, ‘আকিজ পরিবারের সাহায্য কোনোদিনও ভোলার নয়। তাদের মাধ্যমে আমরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তালিকা করে প্রতিটি বাছাই করা পরিবারকে দিয়েছি পুরো মাসের খাবার। ছিল মোট ২০ কেজি চাল, চার কেজি মুড়ি, দুই লিটার তেল, দুই কেজি লবণ, দুই কেজি খেজুর, দুই কেজি ছোলা, দুই কেজি ডাল, দুই কেজি আলু ১০ কেজি পেঁয়াজ, চার কেজি চিনি, দুই কেজি সেমাই, দুই কেজি লাচ্ছা সেমাই, ২শ গ্রামের গুঁড়ো দুধের প্যাকেট, ২শ গ্রাম গুঁড়ো হলুদ, দুইশ গ্রাম গুঁড়ো মরিচ, দুই কেজি আপেল, দুই কেজি পেয়ারা ও ও চারটি করে আনারস। মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের দিকে একজন চিকিৎসক হিসেবে খেয়াল সবসময়ের মতো এবারও রেখেছি। ’
উৎসবে
পবিত্র রোজার ঈদের দিনও আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ডু সামথিং ফাইন্ডেশনের পাশে ছিল। তারা খরচ দিয়েছে মোট ১৫শ পরিবারের জন্য ঈদ স্পেশাল উপহার। প্রতিটি গরিব পরিবারই পেয়েছে সমানভাবে দুই কেজি পোলাও চাল, এক কেজি তেল, এক কেজি চিনি, এক প্যাকেট সেমাই, এক প্যাকেট লাচ্ছা সেমাই ও আড়াইশ গ্রাম করে গুঁড়ো দুধ। তাতে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের খরচ হয়েছে মোট ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। আলাদা করে প্রতিষ্ঠানটি ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মোট এক হাজার প্যাকেট খাবার বিলিয়েছে অভাবীদের মাঝে। এই প্যাকেটগুলোর প্রতিটিতে ছিল আগের মতো খাদ্য উপকরণ। ফলে মোট ২৫শ মানুষকে রঙিন ঈদের দিন উপহার দিয়েছেন তারা। ডা. নাজমুল জানালেন, ‘মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা দুর্গম এলাকার চরগুলোতে এই খাবারগুলো বস্তায় করে আমরা বিলি করেছি। আমি নিজেও গিয়েছি আর সবার সঙ্গে। কাদাপানি, অপরিসীম শ্রমকোনোকিছুই আমাদের দমাতে পারেনি। ’
ফেইসবুকে প্রচারণা
করোনাভাইরাস আসছেচিকিৎসক বলে আরও ভালোভাবে জানতেন তারা। এটি চিকিৎসকদের মাধ্যমে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা মৃত্যুর ভয়াল ছোবল নিজের চোখে দেখেছেন, যুদ্ধ করে চলেছেন মহামারী রোগ কভিড-১৯’র বিপক্ষে। শুরু থেকে তারা ফেইসবুকে নিজেদের পেইজে সক্রিয়। প্রথম দফায় মোট ৮৫ হাজার টাকার সাহায্য তহবিল তুলেছেন তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে। সেই টাকায় নানা জেলায় খাবার, লিফলেট বিলি করেছেন, জীবানুনাশক উপকরণ কিনেছেন, মাস্ক তৈরি ও শ্রমের মজুরি দিয়েছেন, ঢাকার নানা এলাকায় খাবার বিলিয়েছেন। ডা. নাজমুল ইসলাম তার কর্মী, সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ‘তাদের সাহায্যের কথা কোনোদিনও ভোলা যাবে না। তারা প্রবল আন্তরিক, খুব পরিশ্রমী, কাজে নিষ্ঠাবান ও দক্ষ। সবার সাহায্যেই আজ পর্যন্ত কাজ করতে পারছি মানুষের জন্য। ’
অসহায় মানুষের পাশে
দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদেরই একজন হোসেন আলী। বয়স তার ৫০। থাকেন অনেক দূরের জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার তাঁতীপাড়া গ্রামে। সেখানে তার বাড়ি। আছেন স্ত্রী ও দুটি সন্তান। তবে মানুষটি খাটো। মোটে সাড়ে তিন ফিট। শরীর লম্বায় বাড়েনি, কিন্তু ওজন তো আর বয়সের সঙ্গে থেমে থাকেনি। ফলে এখন আর ভালোভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না শরীরের ভারে। শ্রমের কাজ তার সয় না। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। জীর্ণ এক বাড়িতে থাকেন। জীবন চালাতে হবে বলে সেটির কোনাতেই মুদিখানা দিয়ে চলেন। চা, সামান্য চানাচুর, মুড়ি বিক্রি করেন। তবে খদ্দের কোথায়? দিনে গড়ে মোটে সাড়ে ৩শ আয়। জমিজমা নেই বলে অভাব জেঁকে বসেছে অনেক আগেই। রোগে ধরেছে তাকে, চিকিৎসার খরচ জোটে না। রোগ বাড়ে অসুস্থ শরীরে। করোনাভাইরাসের লকডাউনের ফলে, রোগের ছড়াছড়িতে, আতঙ্কে তার ব্যবসা নেই। বাড়িতে বসে খাবেন কী? সিরাজগঞ্জে বাড়ি বলে এবং শাখা স্কুল এবং নারীদের কর্মমুখী উদ্যোগ আছে বলে তার পাশে দাঁড়াতে পারল ডু সামথিং। চিকিৎসকদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে, প্রতিষ্ঠান ও ফেইসবুকের যোগাযোগের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা হোসেন আলীর জন্য জোগাড় করতে পারলেন। তাদের সপ্তাহখানেকের খাবার দিতে পারলেন। সাহায্য পেয়ে কান্না থামল না হোসেন আলী ও তার স্ত্রীর। তারা খুবই কৃতজ্ঞ। তিনি জানিয়েছেন, দোকান নতুন করে সাজাবেন। চিকিৎসাও করাবেন।
নারীদের জীবন খুব কষ্টের, সংগ্রামে ভরা। তার চেয়ে বেশি কষ্টের জীবন শ্যামলী রানীর। থাকেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় আড়িকান্দা গ্রামে। বছর দেড়েক আগে স্বামী মারা গিয়েছেন ক্যানসারে। ফলে শেষ সম্বলও হারিয়েছেন তিনটি সন্তানের এই মা। মাস চারেক আগে বেপরোয়া নদী গিলে খেয়েছে বসতভিটে। এখন থাকেন আশ্রিত হয়ে এক কোনায় গোপীনাথপুর গ্রামে ওমর সরকারের বাড়িতে। ছেলেমেয়েরা ছোট বলে অভাব কাটছে না। বছর তেরো বয়সের বড় ছেলে গঞ্জে, পথেঘাটে পান-বিড়ি বিক্রি করে। তার মা মানুষের বাড়ির কাজের মহিলা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে ছেলে আর পথে বিক্রিবাট্টা করতে পারে না। খাবারের জোগানও তাদের প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। এই জীবনের করুণ আর্তি কাঁদাল ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বন্ধুদের। তারা সাহায্য জোগাড় করলেন। তাদের মা শ্যমলী রানীকে দিলেন একটি গাভী। এখন তিনি জীবন বদলের সংগ্রামে নেমেছেন।
করোনাভাইরাসের আক্রমণের পর ২৫ জন সাঁওতালকে ৫শ করে মোট ১২ হাজার ৫শ টাকার অর্থ সাহায্য করেছে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন। করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরই তারা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ২৫ জন সাঁওতালকে ৫০০ টাকা করে অর্থ সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
চিকিৎসকদের পাশে
উত্তরায় মাস ছয়েক আগে দাঁতের সব ধরনের রোগের চিকিৎসার প্রযুক্তি নিয়ে চেম্বার শুরু করেছেন এক ডাক্তার। কিন্তু করোনাভাইরাসের আক্রমণে চার মাস ধরে চেম্বার বন্ধ। বাবার কনফেকশনারি বন্ধ বলে রোজগার প্রায় বন্ধ পুরো পরিবারের। লজ্জায় কয়েক মাস দাঁত চেপে ছিলেন তারা। পরে আর পারলেন না অভাবের সঙ্গে টিকতে। মোবাইলে কল দিয়েছিলেন চিকিৎসক নিজেই। তার পাশে চিকিৎসকের এই সংগঠন দাঁড়িয়েছে। দুই সপ্তাহের খাবার পেয়েছেন তিনি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে একসময়ের সচ্ছল মধ্যবিত্ত, এখন উপায়হীন, অভাবে খাবার জোটাতে না পারা অনেক পরিবারে খাবার পৌঁছে দেন ডা. নাজমুল ইসলাম। তারা খাবারের জন্য ত্রাণের সারিতে দাঁড়াতে কুণ্ঠিত হন। লোকলজ্জা ও অপমান সইতে পারবেন না বলে মোবাইলে এমন সংস্থাগুলোকে কল করে বেঁচে আছেন।
শত বাধা পেরিয়ে
করোনাভাইরাসের সময় সাধারণের দান পাচ্ছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় তালিকা করেও টাকার অভাবে যেতে পারছেন না তারা। অনেক সময় অনেককে ফেরাতে হচ্ছে। রমজানে ফজরের নামাজ পড়েই তারা কাজে নেমেছেন। খাবার প্যাকেটজাত করেছেন। ইফতার করেই বিশ্রাম না নিয়ে বাজার করেছেন। রমজানের মধ্যেই ডা. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে এমন এক কাজে সাভার বাজার থেকে বাজার করে ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মী গিয়েছেন মানিকগঞ্জ। শিবালয়ে পদ্মা নদীর ঘাটে গিয়ে নৌকায় খাবার ও সামগ্রী ওপারে নিয়েছেন। এরপর ঘোড়ার গাড়ির বাহনে তুলেছেন মাথায় করে। তারপর বালিতে আটকেপড়া গাড়ি সবাই মিলে ঠেলে এগিয়েছেন। অনেকে প্যাকেট হাতে নিয়ে এগিয়েছেন ওজন কমাতে। এমন ঘটনা আছে, আরও কষ্ট বৃষ্টি, কড়া রোদ, দুর্গম পথ, কাদা কোনোকিছুই আমলে না নিয়ে কাজ করতে হয়।