ওদের মুখে আনন্দের আভা। খুশি খুশি মন। এবারই প্রথম তারা কোন নির্বাচনে ভোট দিবে। এ নতুন ভোটারদের চাওয়া সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও মাদক মুক্ত সমাজের। তাদের চাওয়ার সাথে সমন্বয় করে যে কাউন্সিলর সমাজকে ঢেলে সাজাতে পারবে, তেমন কাউন্সিলর তারা পেতে চায়। আদর্শগতভাবে যে কাউন্সিলরপ্রার্থী মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না, তাকেই ভোট দিবে এ নতুন ভোটাররা।
নারয়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা। এ থানায় এবার ভোট দিবেন দুই লাখ ২ হাজার ৬৪৭ ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৯৬৩ জন। আর পুরুষ ভোটার রয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ৬৮২ জন। ২ জন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের। এবার নাসিক নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাবনার একটি বড় বিষয় হচ্ছে তরুণ নতুন ভোটাররা। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তরুণ ভোটারদের দিকটা মাথায় রাখছেন, কাছে টানছেন তাদের।
নাসিক ২ নং ওয়ার্ডের ধনুহাজী রোড এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী নাদিয়া নূর মরিয়ম এবার প্রথম ভোট দিতে পারার সুযোগ পাওয়ায় খুবই উৎফুল্ল। দাদী-নানীসহ স্বজনদের কাছে ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা, নানা গল্প শুনেছেন। এবার প্রথম ভোট দিতে পারবে বলে নিজেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক বলে মনে করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইভটিজিং ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড চাই আমি। তিনি আরো বলেন, যদি আমার ভোট আমি দিতে পারি, তবে রাতে ও দিনে যাকে এলাকাবাসী কাছে পাবে ঐ রকম প্রার্থী দেখে আমি ঐ প্রার্থীকে ভোট দিব।
জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৈত্রী কুন্ডু। তিনি আসন্ন (আগামী ১৬ জানুয়ারী) নাসিক নির্বাচনে এবারই প্রথম ভোট দিবেন। তার মতে, নতুন ভোটার হওয়ায় নিজেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক মনে হচ্ছে । এছাড়া এবার শুনেছি ইভিএম এ ভোট হবে। প্রথম ভোটটাই দিব ইভিএমে, প্রথম ভোটই যন্ত্রের সাহায্যে। এজন্য স্নায়ুচাপটা একটু বেশিই। আমার ভোটে নির্বাচিত হবে মেয়র ও কাউন্সিলর, এজন্য আমি খুবই উদ্দীপ্ত। প্রার্থী পছন্দের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় লক্ষ্য রাখবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচনে যোগ্য এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের বিষয়গুলো যিনি অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গুলো নিতে পারবেন। যার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে, আমাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনবেন- এমন প্রার্থীকেই ভোট দিবেন বলে জনিয়েছে এই নতুন ভোটার।
নাসিক ৫ নং ওয়ার্ডের নতুন ভোটার টিটু আহমেদ বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম মহামারি আকার ধারণ করেছে। উঠতি বয়সের উগ্র ছেলেরা এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে প্রতিনিয়তই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এছাড়া ইভটিজিং, মাদক সেবন ও মাদক বিক্রিসহ নানা অপকর্মে এরা লিপ্ত। আমি এমন প্রার্থীকেই ভোট দিব, যে সমাজকে এ অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পারবে। যে প্রার্থী কিশোরগংয়ের বলয় মুক্ত। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে ভোটার হালনাগাদ শুরু হলে আমি আবেদন করি এবং ২০২১ সালের মধ্যেই স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র পাই। আমি এবারই প্রথম ভোট দিব। তাই প্রত্যাশাও অনেক বেশি। আমার জানামতে আমাদের ওয়ার্ড থেকে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। আমি এদের মধ্যে যোগ্য ব্যাক্তিকেই ভোট দিব।
২০ বছর বয়সের হাজেরা মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানায়, ভোট দেয়ার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। এবারই প্রথম ভোট দিব আমি তাও আবার ইভিএমে। তবে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিব। নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের ২৩ বছর বয়সি পারভেজুর রহমান রাকিব জানায়, আমরা সন্ত্রাসকে পছন্দ করি না। আমরা চাই সন্ত্রাসমুক্ত সমাজের। এসব বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখেই আমি এবার কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোট দিব। ৮ নং ওয়ার্ডের এনায়েতনগর এলাকার বাসিন্দা ও নারায়ণঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ১৯ বছর বয়সের কাজী সাঈদ হাসান ইরফান বলেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিব। একই এলাকার তাহমিনা আহসান লীজা জানায়, নিজের ভোট নিজে দিতে পারবো কি না তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। জীবনের প্রথম ভোট দিব। নিজের ভোট যেন নিজে দিতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন রইল।
নতুন ভোটার শ্রাবণ মুন্সি, মানসুর রহমান, রবিন বিশ^াস ও দিপঙ্কর কুমার দাশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এমনটা আশা করে বলেন, ক্ষমতার জন্য রক্তপাত, মারামারি, কাটাকাটি দেখতে চাই না। বক্তৃতা ও পোস্টার দেখে নয়, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে তারা ভোট দেবেন।
তরুণ ভোটার প্রসঙ্গে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মো: ওমর ফারুক বলেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশকে অসম্ভব ভালোবাসে, তারা দেশপ্রেমী। আমার দৃঢ় বিশ^াস এ প্রজন্ম দেশের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর কাউকে তারা বেছে নিবে না। তারা সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক প্রর্থীকেই ভোট দিবে। এদিকে ভোট কেন্দ্রে কোনো সংঘাত নয়। একটি অবাদ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জীবনের প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে নতুন ও তরুণ ভোটাররা। এমনটাই আমি প্রত্যাশা করি।