প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, এ নির্বাচনটা বাংলাদেশের জন্য একান্ত জরুরি। কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেকেই অনেক রকম খেলা খেলতে চায়। এদেশের ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকে, আমাদের সেই চেষ্টাই করতে হবে।
বুধবার (৩ জানুয়ারী) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে পাঁচটি জেলা ও একটি উপজেলার নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনে কোনো সংঘাত চাই না। যাকে খুশি ভোট দেবেন। ভোটটা অনেক জরুরি। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেই লুটপাট ও দুর্নীতি শুরু করে। বিএনপির দুর্বৃত্তায়নের জবাব দিতে হবে ভোটের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আমরা দেশে একটি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আর বিএনপি চায় কারচুপির নির্বাচন। জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল খালেদা জিয়া। থাকতে পারেনি। ভোট চুরি করলে জনগণ মেনে নেয় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার পতন ঘটে। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়। তারপর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ওদের শিক্ষা হয়নি। তাই আবারও ২০০১ সালে ভোট কারচুপি, ভোট চুরি, জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলা শুরু করে। তাদের দুঃশাসনের কারণে দেশে ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা জারি) হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আমি যখন গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি, তখন ষড়যন্ত্রের শিকার হই। ক্ষমতা আসতে পারেনি। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বিএনপি-জামায়াত জোট আসে। ক্ষমতায় এসেই তারা দুর্নীতি লুটপাত, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অকাট্য নির্যাতন শুরু করে। তাদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও আরেক দিকে তারেক হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির আখড়া গড়ে তোলে। ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে। যার ফলে দেশে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়। তারা জানত জনগণ তাদের ভোট দেবে না, প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার লিস্ট তৈরি করে। সেভাবে নির্বাচন করার প্রচেষ্টা নেয়। সেখানে তারা ব্যর্থ হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টি সিট পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২৩৩ সিটে জয়ী হয়। আর অন্য সিটগুলো আমাদের জোটের শরিকরা পেয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। দেশবাসী এর সুফলও পাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে একটানা ক্ষমতায় আছি বলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করতে পেরেছি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এবং শিক্ষার উন্নয়ন করতে পেরেছি। আমরা বাংলাদেশকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি। আমরা বেকারত্বের হারও কমিয়ে তিন শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। দেশে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি।