বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা সংঘাত, গোলযোগ চাই না। দেশে অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এই দেশে কেউ নিরাপদ নয়। সরকারের পতন অনিবার্য। তিনি বলেন, সবচেয়ে আশঙ্কার কথা, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে একটা কথা স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তিগুলোর ন্যায্যতার লড়াইয়ে, তাদের ক্ষমতার প্রভাব বলয়ের একটা ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে চলেছে। এর জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। তারা অবিবেচকের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলে বাংলাদেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) মহিলা দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা সফরে এসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যে শঙ্কা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন আমরাও চাই, সেটা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যেখানে সবাই যেন ভোট দিতে পারে। বর্তমান সরকারের আমলে আগে যে দুটি নির্বাচন হয়েছে, সেখানে মানুষের ভোটাধিকার ছিল না। তবে এই সরকারের অধীন কোনো নির্বাচন হবে না। এই সরকার নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম এত বেড়েছে যে সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু মহামারি পর্যায়ে চলে গেছে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, এই সরকারের দুঃশাসন নারীদের অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। মহিলা দলের নেতাকর্মীরা নানা জায়গায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীরা এখন সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। নারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, এর বদলা নেওয়া হবে।
মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি ইয়াসমিন হক।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার সফরে ঢাকা এসেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।