উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে বহিষ্কৃত সাবেক বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। একই সাথে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মাকে ১০ লক্ষ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। অনাদায়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।
শুক্রবার দিল্লি আদালতের বিচারক ধর্মেশ শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় এই মামলার আরেক অভিযুক্ত শশী সিংহকে ‘বেনিফিট অফ ডাউট’-এর কারণে খালাস দিয়েছে আদালত।
বিচারক বলেন, ‘সেঙ্গার একজন জন প্রতিনিধি এবং তিনি মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।’ এ সময় কুলদীপের পক্ষে করা শাস্তি কমানোর আবেদন নাকচ কনে দেন বিচারক।
কুলদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৭ সালে তিনি এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন। গত সোমবার ভারতের আদালত সরকারি পদাধিকারী ব্যক্তি হয়ে ধর্ষণের এ ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধি ও পকসো আইনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
২০১৭ সালে উন্নাওয়ের এ ধর্ষণকাণ্ড ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। বিধায়কের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপির ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছিল। পরের বছর কুলদীপকে আটক করা হলেও আদালত কিশোরী ও তার পরিবারকে হয়রানি এবং ধর্ষণের ঘটনাটিকে অবহেলা করায় প্রশাসনকে তিরস্কার করে।
বিধায়ক ও তার লোকজনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরীটির পরিবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে চিঠি লেখার পর সুপ্রিম কোর্ট উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি মামলাকে উত্তর প্রদেশ থেকে সরিয়ে দিল্লিতে সরিয়ে নেয়। বিচারকরা একবছর ধরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে থাকা ধর্ষণ মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে সিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। কিশোরীকে বহন করা গাড়িটিতে ট্রাকের ধাক্কার ঘটনার তদন্ত সাত দিনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের এসব আদেশের কয়েক ঘণ্টা পর বিজেপি কুলদীপকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায়।
২০১৭ সালে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কুলদীপের উন্নাওয়ের বাড়িতে চাকরির তদ্বিরে যান ঐ কিশোরী। সে সময় বিজেপির এ বিধায়ক ও তার সঙ্গী-সাথীরা কিশোরীটিকে ধর্ষণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি, ইত্তেফাক।