নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতা নাজিম উদ্দিনের নির্যাতন ও হয়রাণী থেকে মুক্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইতালি প্রবাসী সাহাবুদ্দিন সরকার ও মারজিয়া খাতুন নামে এক দম্পতি। বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। অভিযুক্ত এই আওয়ামীলীগ নেতার নির্যাতন থেকে রেহাই চেয়ে এই দম্পতি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
ইতালি প্রবাসী দম্পতি সাহাবুদ্দিন সরকার ও মারজিয়া খাতুন দীর্ঘ ২৩ বছর প্রবাস জীবনের উপার্জনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন ২০১৭ সালে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী চাঁদপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘণিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে নাজিম উদ্দিন দলীয় প্রভাব বিস্তার করেই ইতালি প্রবাসীর বহুতল ভবনের ঠিকাদারী কাজ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নাজিম উদ্দিন নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ এবং অধিক মূল্য নেওয়ায় প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় কমাতে নিজেরাই বাড়ি নির্মাণ এবং নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করতে থাকেন। কিন্তু এতে কাল হয়ে দাড়ায় নাজিম উদ্দিন। নাজিম উদ্দিনের মাধ্যমে বাড়ির নির্মাণ কাজ না করিয়ে প্রবাসী দম্পতি নিজেরাই নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করতে চাওয়াই তিনি ফুঁসে উঠেন প্রবাসী ঐ দম্পতির উপর।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী এই দম্পতি জানায়, নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব ফেরত নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নাজিম উদ্দিন প্রবাসী এই দম্পতির উপর শুরু করেন নানা ধরণের হয়রানি, মিথ্যা মামলা, কাজ বন্ধ রাখা, মিথ্যা সংবাদ প্রচার সহ হুমকি-ধামকির মত অসংখ্য অপকর্ম। একই সাথে ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া, পানির পাম্প বসাতে বাধা, বাড়ির আঙ্গিনায় অগ্নি সংযোগ, পিলার ভেঙে ফেলতে বাধ্য করা, পাইলিংয়ের রড কেটে নিয়ে যাওয়া, ও বিদেশ যেতে বাধা প্রদানের চেষ্টাসহ নানাভাবে দীর্ঘ ৮ বছর হয়রানি মূলক ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, নাজিম উদ্দিনের এসব হয়রানী থেকে বাঁচতে অসংখ্যবার সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচার-শালিস হলেও কোন লাভ হয়নি। এক সময় নিজেরাই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন এই প্রবাসী দম্পতি। গত বছরের জুলাই আন্দোলনে ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরও নাজিম উদ্দিন তার হয়রানীমূলক কর্মকান্ড বন্ধ করেনি।
ভুক্তভোগীরা জানান, নাজিম উদ্দিন তার পালিত ক্যাডার বাহিনী দ্বারা এই প্রবাসী দম্পতির বাসায় চুরি ও ভাঙচুরের মত ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় ইতালি প্রবাসী সাহাবুদ্দিন সরকারকে ফোন করে ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসার পর আর বিদেশে ফেরত যেতে দেবেন না এবং তাকে গুম করার হুমকি প্রদান করে নাজিম উদ্দিন।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী মারজিয়া খাতুন বলেন, আমরা প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে বাংলাদেশে টাকা পাঠাই। আমরা এদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমরাতো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছি। তাহলে আমরা কেন নিজেদের দেশে এসে নিজের দেশের মানুষ দ্বারা হয়রানির শিকার হবো? আমারাতো কারো কোন ক্ষতি করছিনা। আমরা কেন অবমূল্যায়িত হবো? আমরা কি শান্তিতে দেশে এসে বসবাস করতে পারবো না?
সাহাবুদ্দিন সরকার বলেন, আমরা নাজিম উদ্দিনের হয়রানি থেকে রেহাই পেতে অসংখ্যবার থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ আমাদের কোন ধরণের সহযোগীতা করেনি। কারণ নাজিম উদ্দিন আওয়ামীলীগ নেতা ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সেই প্রভাব খাটিয়ে সে আমাদের দীর্ঘ ৮ বছর মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পরও সে আমাদেরকে হয়রানী করেই যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।