পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী গুলালাই ইসমাইল দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পালাতে বাধ্য হলেন। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। এক বিবৃতিতে গুলালাই নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে মানবাধিকার কর্মী গুলালাই বলেন, গত দুই মাস ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ সময়। আমাকে বহুবার হুমকি দেওয়া হয়েছে, হেনস্তা করা হয়েছে। তবে আমি সৌভাগ্যবান যে আমি এখনো বেঁচে আছি। কিন্তু কীভাবে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন সে সম্পর্কে কিছুই বলেননি তিনি। তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।
গুলালাই নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন যে, সরাসরি পাকিস্তান থেকে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে যাননি তিনি। সে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সি এই মানবাধিকার কর্মী গুলালাই বর্তমানে নিউইয়র্কে তার বোনের সাথে আছেন। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ও চেয়েছেন।
গুলালাই ইসমাইল অনেক সময় ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন , তিনি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বেশি কথা বলেছেন। এছাড়াও পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করেছেন গুলালাই।
গুলালাই ইসমাইল ২০১৪ সালে একশ নারীকে নিয়ে একটি টিম গঠন করেন। তারা বাড়িতে নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে। তিনি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ কিছু সম্মাননা পেয়েছেন।