জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা একক ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৩০০ আসনেই নির্বাচনের আমাদের লক্ষ্য। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন সেটা খালেদা জিয়ার কথা আমাদের নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি বলেছেন। ওনাদের সম্মানে আমরা হয়তো সেসকল জায়গায় (আসনে) আমরা প্রার্থী দিব না। এছাড়া সর্বাধিক আসনেই শাপলা কলির জন্য আমরা প্রার্থী দিবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছি। আমরা এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের যে সংস্কৃতি, যাদের টাকা আছে, এলাকায় গডফাদারগিরি করে আমরা সেই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। ববং এলাকার গ্রহণযোগ্য মানুষ, সাধারণ মানুষের পাশে যাকে পাওয়া যায়, যাকে মানুষের প্রয়োজনে পাওয়া যায়, যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাদেরকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা সংসদে দেখতে চাই। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সমঝোতা বা জোট এটা একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে। যেমন জুলাই সনদের বিষয়টি রয়েছে। এই সনদে আমাদের সংস্কারের দাবীগুলোর সাথে যদি কোন দল সংহতি প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে হয়ত আমরা জোটের সিদ্ধান্ত নিবো। এখন পর্যন্ত আমরা একক ভাবেই নির্বাচনের জন্য আগাচ্ছি। আমরা এই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আমাদের প্রার্থীদের প্রাথমিক একটি তালিকা প্রকাশ করবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গাজী সালাউদ্দিন ভাই আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। তিনি আন্দোলনের সময় আহত হন, তার গলায় একটি স্প্লিন্টার ছিল, চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেই অবস্থাতেই তিনি এতগুলো দিন বেঁচে ছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর তিনি মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা তিনি হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। শুনেছি তারা স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির কর্মীর দ্বারা হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এটি থানা পুলিশ পর্যন্ত গিয়েছে। এ ছাড়া শুনেছি আওয়ামীলীগের সব সময় একটা থ্রেডের মধ্যে তারা থাকে।
তিনি আরও বলেন, এরকম জুলাই যোদ্ধারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছেন যারা আহত হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন, দেহে এখনো স্প্লিন্টার বহন করছেন। তারা আজও চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। তাদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে। এই পরিবারগুলোর আত্মত্যাগের কারণেই তো আমরা গণঅভ্যুত্থানে সফল হয়েছিলাম। আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করতে পেরেছিলাম এবং বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করার স্বপ্ন দেখছি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এরকম হাজারো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধারা এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন। অনেকেই আজও সুচিকিৎসার অভাবে ভুগছেন। এই আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব অন্তর্বতীকালীন সরকারের ছিল। কিন্তু তারা তা সম্পূর্ণভাবে পালন করতে পারেনি। ফলে আমাদের লাশের সারি বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, শহীদের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সরকারের প্রতি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যারা এখনো আহত অবস্থায় আছেন, যাদের শরীরে সিপ্লন্টার রয়েছে, যারা অঙ্গহানি হয়েছেন তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। একবার চিকিৎসা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হবে, না হলে গাজী সালাউদ্দিন ভাইয়ের মতো আরও অনেকে মৃত্যুবরণ করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গাজী সালাউদ্দিন ভাইয়ের দুটি সন্তান রয়েছে, তার স্ত্রী অসুস্থ। তাদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে। শহীদদের পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ, তাদের ত্যাগের কারণেই আজ আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পেরেছি। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও শহীদ পরিবারের দায়িত্ব যেন রাষ্ট্র নেয়। নির্বাচনের ডামাডোলে যেন আমরা এই পরিবারগুলোর কথা ভুলে না যাই। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেই আসুক না কেন, এই চিকিৎসা ও সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের কবরও জিয়ারত করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী ও কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ। ##