গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। দিনের পর দিন বাড়ছে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক। একদিকে যেমন বেড়েছে আতঙ্ক অপরদিকে বেড়েছে অসহায়দের মাঝে চিন্তা। বিপাকে পড়েছেন সমাজের অসহায় দিনমজুর ও ঘরবন্দী সাধারণ মানুষেরা। নেই কোন আয় রোজগারের উৎস। সরকারের দেয়া চাল পেলেও যেন মনে শান্তি নেই তাদের। আয় রোজগারের অভাবে কিনতে পাড়ছেন না কাঁচাবাজার।
জনগণের ঠিক এমনি একটি বিপদের সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগ। জেলার প্রতিটি মহল্লায় গিয়ে বাসায় বাসায় বিনা মূল্যে কাঁচাবাজার পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে কিনে নিচ্ছেন এই কাঁচাবাজারগুলো। পাশাপাশি স্থানীয় আরত থেকেও নিচ্ছেন কিছু। আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকের নাম দিছেন “ফ্রি সবজি বাজার”।
কাঁচাবাজারগুলোর মধ্যে থাকছেন : আলু, লাউ, কুমড়া, টমোটো, চিচিংগা, বরবটি, পুইশাক, ঢেড়স, লালশাক, ডাটাশাক, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।
জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল করোনার ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও জেলাকে লকডাউন ঘোষণ করেন প্রশাসন। যার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে খাদ্যসংকটসহ তরিতরকারির সংকটেও পড়েছে অনেকেই।
সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা পেয়ে ভাতের অভাব খানিকটা কেটে গেলেও কর্মহীন এসব মানুষ টাকার অভাবে কিনতে পাড়ছেন না কাঁচাবাজার। জনগণের সুবিধা বিবেচনা করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত ২১ এপ্রিল থেকে জেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজস্ব তহবিল গঠন করে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় গিয়ে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে কাঁচাবাজার (সবজি) দিয়ে যাচ্ছেন।
তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। এদিকে যতোদিন এই করোনা ভাইরাসের মহামারি থাকবে ততোদিন সমাজের অসহায়দের পাশে থাকার প্রত্যাশা দিয়েছেন জেলা নেতাকর্মীরা।
ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় করোনার এই দুর্যোগময় সময়ে সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগ এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই নিজস্ব তহবিল গঠন করে শহরের ১২টি ওয়ার্ডে গিয়ে অসহায়দের মাঝে বিনামূল্যে কাঁচামাল (সবজি) দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দরিদ্র অসহায়দের মাঝে এই সবজি বিতরণ করেছি। আশা করি যতোদিন এই ভাইরাসের ফলে মানুষেরা ঘড়বন্দি থাকবে জেলা ছাত্রলীগ তাদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। খবর ইত্তেফাক।