করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেশি ছিল। তখন থেকেই কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতাল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে হাসপাতালটির চুক্তির মেয়াদ (২০২০ সালের ২১ মার্চ -১৫ জানুয়ারী ২০২১ পর্যন্ত) শেষ হলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়াও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় নারায়ণগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। এতে আতঙ্কিত দেশবাসী, আতঙ্কিত সিদ্ধিরগঞ্জবাসীও।
সেই আতঙ্ক থেকেই গত বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নাসিক কাউন্সিলর (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) আয়েশা আক্তার দিনা নিজের ফেসবুক আইডিতে নারায়ণগঞ্জ-৪, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং নাসিক মেয়রকে উদ্দেশ্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন। মূহুর্তেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়। ওই স্ট্যাটাসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানকে এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে বন্ধ হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরুর আহ্বান জানান কাউন্সিলর দিনা।
মাননীয় মেয়র মহোদয় আইভি আপা, মাননীয় ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান শামীম ভাই, মাননীয় ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান সাহেব আপনারা প্লিজ কাঁচপুরের সাজেদা হাসপাতালটি চালু করার ব্যবস্থা করুন। নারায়ণগঞ্জে করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছে। আমার ঘরেও করোনা রুগী। আমার স্বামীর করোনা পজিটিভ। এরমধ্যে সকালে ফোন আসলো এক পরিচিত ছোট বোন করেনায় আক্রান্ত হয়ে এখন অবস্থা খারাপ। কত হাসপাতালে ভর্তি করার চেস্টা করছি কোথাও সিট খালি নাই। আমরা সবাই করোনার কাছে অসহায় হয়ে গেছি। আমার পুরা পরিবার আইসোলেশন আছি, ঘর থেকে বের হতে পারছিনা। আজ আমার ঘরে করোনা আসাতে হাড়ে হাড়ে বুঝতাছি যেই ঘরে করোনা আসে সেই ঘরের সদস্যরা কতটা অসহায় হয়ে পড়ে। মরে গেলেও কেউ আসেনা সাহস দিতে। প্লিজ আপনারা তিনজন নারায়ণগঞ্জ এর জনগন এর অভিভাবক। আপনারা তিনজন সাজেদা হাসপাতালটি চালু করার ব্যবস্থাসহ আইসিউ, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়ানোর ব্যবস্থা করেন প্লিজ। ফেইসুকে স্টাটাস দেয়ার ব্যাপারে নাসিক কাউন্সিলর (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) আয়েশা আক্তার দিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, আমার স্বামী করোনাক্রান্ত। এরমধ্যে আমাকে এক ছোটবোনসহ এলাকার করোনাক্রান্ত অন্যান্য রোগীদের স্বজনরা ফোন করে আইসিওর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করে একের পর এক ফোন করছে। আমি চেষ্টা করছি, কিন্তু আইসিওর ব্যবস্থা করতে পারছি না। অনেক অসহায় বোধ করছি। গত বছরের করোনার সময় অনেক মানুষের বাড়িতে খাবার নিয়েছি। করোনাক্রন্ত রোগীদের পাশে দাড়িয়েছি। এত অসহায় বোধ করিনি। কিন্তু এ বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নিজেকে অনেক অসহায় লাগছে। সেই থেকেই করোনার হাসপাতালের দাবি করে এই স্টাটাস দিয়েছি। ওনাদের মাধ্যমে করোনা হাসপাতাল হলে এ এলাকার জনগন উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগের ৩৯টি জেলার ৯৮৩ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩১ জন রোগী আইসিইউয়ে সেবা নিয়েছেন। সেই হাসপাতাল চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী থেকে বন্ধ।