নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বরের পর বিদেশের ড্যান্সবারে নারীপাচারকারী দলের আন্তর্জাতিক সদস্যদের গ্রেফতার করতে আবারও অভিযান চােিয়ছে র্যাব-১১। ২৬ জানুয়ারী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক নারী পাচারপারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। যার মধ্যে তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট ৭ জন। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে এসময় ৩৯টি পাসপোর্ট, পাসপোর্টের ৬৬ টি ফটোকপি, ১৮টি বিমানের টিকেট, ভিসার ৩৬ টি ফটোকপি, ১টি সিপিউ, ১৯ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীস্থ র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন পিপিএম (বার)।
গ্রেফতারকৃতরা হল- ঢাকার কাকরাইলের ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জের শাহাবুদ্দিন (৩৭), তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট নোয়াখালীর সেনবাগের হৃদয় আহম্মেদ ওরফে কুদ্দুস (৩৭), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মামুন (২৪), মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার স্বপন হোসেন (২০), চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের শিপন (২২), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকার রিজভী হোসেন ওরফে অপু (২৭), পটুয়াখালীর বাউফলের মুসা ওরফে জীবন (২৮) ও চাঁদপুরের মতলবের শিল্পী আক্তার (২৭)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন পিপিএম (বার) জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ডান্সবারে ড্যান্স ও অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে পাচার করে। উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাচারকৃত নারীদের হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখত। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে এই সকল তরুণীদেরকে কোন অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছাতে হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেওয়া হত না। প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা এসকল আসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হত।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের রূগঞ্জের তারাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪জন ভিকটিম তরুণীকে উদ্ধার এবং সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়। ঐ অভিযানে র্যাব-১১ আটককৃতদের কাছ থেকে ৭০ টি পাসপোর্ট, নগদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ২০০টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমান টিকেট, ৫০টি টুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, ১ টি সিপিইউ, ১ টি মনিটর ও ১টি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করেছিল। ২৩ নভেম্বরের অভিযানের পর নারী পাচারকারীরা ঢাকার বিমান বন্দর ছাড়াও দেশের অন্যান্য বিমান বন্দর এবং সরাসরি মধ্যপ্রচ্যে নারী পাচার না করে পাশ^বর্তী দেশ সমসূহের এয়ারপোর্ট থেকে নারী পাচার করছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন পিপিএম (বার)।