যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানকে বরখাস্ত করেছেন। তবে বরখাস্তের কারণ এখনো জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, একটি বিস্তৃত রদবদলের অংশ হিসেবে সোমবার ব্রাভারম্যান বরখাস্ত হয়েছেন। এদিকে তার স্থলাভিষিক্ত হলেন জেমস ক্লেভারলি। এক বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার পর ঋষি সুনাকের মন্ত্রিসভায় জেমস ক্লেভারলি পেলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ক্ষমতা গ্রহণের ১৩ মাস পর এটিই ঋষি সুনাকের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের ঘটনা।
গত শনিবার (১১ নভেম্বর) লন্ডনে ফিলিস্তিনিপন্থি একটি বড় বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন সদ্যসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাভারম্যান। তিনি ওই বিক্ষোভকে ‘বিদ্বেষমূলক মিছিল’ বলেও মন্তব্য করেন। যার জেরে লন্ডনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এরপরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাসহ সুনাকের নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের কাছ থেকেও ব্রাভারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার চাপ আসে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ব্রাভারম্যান তা মেনে নিয়ে সরে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
গত সপ্তাহে দ্য টাইমসে বিস্ফোরক এক নিবন্ধ লেখেন সুয়েলা ব্রেভারম্যান। সেখানে তিনি লেখেন, লন্ডনের রাজপথে জাতীয়তাবাদী এবং অতি ডানপন্থীদের চেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত নরম আচরণ করেছে পুলিশ। তার নিবন্ধটি ঋষি সুনাকের দল ভালোভাবে নেয়নি। তার মন্তব্যের নিন্দা করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কাছে এরপর সুয়েলা ব্রেভারম্যানকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই। ব্রেভারম্যানের বিরুদ্ধে পুলিশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করার অভিযোগ করেছে লেবার পার্টি। কনজারভেটিভ পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য তখন বিবিসিকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ভট আচরণ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে। তাকে পদে বহাল রাখা প্রধানমন্ত্রীর জন্যও ক্ষতিকর।
শনিবার লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী পথে নামে। তাদের হাত থেকে স্মৃতিসৌধ রক্ষার উদ্দেশ্যে পাল্টা বিক্ষোভ করতে রাজপথে অবস্থান নেয় ডানপন্থীরা। ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী এবং ডানপন্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। প্রায় ১৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিল ফিলিস্তিনপন্থী। বিক্ষোভকারীদের থেকে স্মৃতিসৌধ রক্ষার উদ্দেশ্যে রাজপথে নামা ডানপন্থী আন্দোলনকারী। পুলিশের এই আচরণের সমালোচনাই করেছিলেন সুয়েলা ব্রেভারম্যান।
এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসও ব্রাভারম্যানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন। কিন্তু সেবার ব্যক্তিগত ইমেইল থেকে ‘অফিসিয়াল ডকুমেন্ট’ পাঠানো কাণ্ডের জেরে হইচই শুরু হলে দায় স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করেন ব্রাভারম্যান। সেবার তিনি মাত্র ৪৩ দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঋষি সুনাক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আবার ব্রাভারম্যানকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন। সূত্র: রয়টার্স।