গ্রীষ্মকালে গরম যেমন বাড়তে থাকে, তেমনি আর একটি জিনিসের উপদ্রপ বাড়ে। আর তা হচ্ছে মাছি। মাছিকে কোনোভাবেই যেন জব্দ করা সম্ভব হয় না। এগুলো খাবারের উপর বসে, ফলে এর মাধ্যমে খাবারে জীবাণু ছড়ায়। যা আমাদের অসুস্থতার জন্য দায়ী।
বাড়িতে বিভিন্ন জায়গায়, খাবার ঘর, শোবার ঘর, বিভিন্ন আসবাবপত্র, মিষ্টির দোকান ইত্যাদি নানা জায়গায় মাছির তাণ্ডব চলে। এর সবাই আমরা কম বেশি বিরক্ত হই। দেখা যায় সারাক্ষণ এদের ভো ভো আওয়াজে বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌছে যেতে হয়।
বাজারে মাছি তাড়ানোর বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি হলেও অনেক সময় তা কাজ করে না বা করলেও খুব দেরিতে। তাছাড়া এতে ভয়ও থাকে যে, মাছি ওই ওষুধ খেয়ে যদি আবার কোনো খাবারে বসে যায় তাহলে হীতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। এই আতংক থেকে রক্ষা পেতে ঘরোয়া কিছু সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই একটি টোপ বা ফাঁদ তৈরি করে নিতে পারি। যার ব্যবহারে খুব সহজেই মাছির উপদ্রপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই কৌশলটি-
যা যা লাগবে
একটি পানির বোতল, মধু বা সিরাপ বা পঁচা কোনো ফল, পানি, তরল সাবান, ভিনেগার।
তৈরি ও ব্যবহার পদ্ধতি
প্রথমে বোতলটি দুইভাগে কেটে নিন। নিচের অংশটি উপরের অংশ থেকে বড় করে কাটুন। এবার নিচের অংশে কিছু পরিমাণ পানি দিন। এই টোপ থেকে মৌমাছিদের দূরে রাখতে পানিতে অল্প ভিনেগার মেশাতে পারেন। এবার পানিতে থালা-বাসন ধোয়ার তরল সাবান মিশিয়ে নিন কিছুটা। এতে করে মাছিকে ফাঁদে ফেলা অনেক সহজ হয়ে যায়।
এবার বোতলের উপরের অংশটুকু উল্টো করে নিচের অংশে রাখুন যেন দেখতে ফানেলের মতো হয়। বোতলের ক্যাপ অবশ্যই খুলে ফেলবেন। এবার উপরের অংশ দিয়ে যে ফানেলটি বানিয়েছেন সেখানে মধু বা সিরাপ বা চিনির পানি ছিটিয়ে দিন। এগুলোর সঙ্গে চাইলে পঁচা ফলও দিতে পারেন কয়েক টুকরা। এবার বোতলে দু’টি ছিদ্র করে যেখানে মাছির উপদ্রব বেশি সেখানে ঝুলিয়ে দিন।
মাছি টোপের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বোতলে প্রবেশ করবে, তবে বের হতে চাইলে আর পারবে না সংকীর্ণ ফাঁকা জায়গার জন্য। অবশেষে ফাঁদে আটকা পরে মাছি মারা যাবে। তখন এগুলো পরিষ্কার করে নতুন করে আবার টোপ তৈরি করে দিন। এভাবে টানা কয়েকদিন করলে মাছির বিরক্তিকর উপদ্রব হতে পরিত্রাণ পেয়ে যাবেন। খবর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।