নেত্রকোনা জেলার মদনে জাকিম আলী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বড় বোনকে বিয়ে না দেওয়ায় ছোট বোনকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত জাকিম আলী।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে জাকিমের বিরুদ্ধে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন ওই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। অভিযুক্ত জাকিম একই গ্রামের সমুজ আলীর ছেলে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী ওই শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মারধর করল বখাটে, থানায় মামলা
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, জাকিম আমার বড় ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি এতে অসম্মতি প্রকাশ করি। এক মাস আগে আমার ভাতিজিকে অন্যত্রে বিয়ে দিয়েছি। এর পর থেকেই জাকিম আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে আমি জমিতে সেচ দিয়ে হাওর থেকে বাড়িতে ফিরছিলাম। এ সময় দেখতে পাই বাড়ির সামনের জমিতে অচেতন অবস্থায় আমার মেয়ে পড়ে রয়েছে। বাড়িতে আনার পর জ্ঞান ফিরলে ওখানে কীভাবে গেলে জানতে চাইলে সে ধর্ষণের ঘটনা বলে।
এ ঘটনার পর থেকে কাউকে কিছু না বলতে তার পরিবারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার রাতে থানায় একটি মামলা করেছি।
অভিযুক্ত জাকিমের মা তাজমহল বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসাতে কতুব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়েকে ঘর থেকে অন্য কেউ নিয়ে এমন কাজ করেছে মনে হয়।
ছেলে কোথায় আছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার ছেলে পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুনেছি রুদ্রশ্রী গ্রামে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীর বাবা মদন থানায় অভিযুক্ত জাকিমকে আসামি করে বুধবার রাতে একটি মামলা করেছেন। ভিকটিমকে বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত আসামি জাকিমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।