একজন প্রকৃত আত্মবিশ্বাসী লোক কখনোই আরামপ্রিয় জীবনে বিভোর হয়ে সফল হওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে হাতছাড়া করেন না। জীবনে সফল হতে হলে এই পাঁচটি প্রধান সদগুণ থাকা জরুরী।
সত্যনিষ্ঠা: এটা হচ্ছে বিশ্বাস, মূল্যবোধ, চিন্তা, বাচন ও আচরণে একত্ব। অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় অবস্থায়ই নিজ আদর্শের প্রতি একইভাবে আস্থাশীল ও অনুসারী থাকা প্রয়োজন। দ্বৈতনীতি অবলম্বন সত্যনিষ্ঠার বিপরীত।
ধৈর্য্য: দুর্বল অবস্থায় স্থির থাকা, সবল অবস্থায়ও স্থিরতা বজায় রাখা। প্রতিকূল অবস্থায় নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়া, অনুকূল অবস্থায় অহংকারী বা অত্যাচারী হয়ে না ওঠা। ধৈর্য্যের অভাবে সত্যবাদিতা থেকে বিচ্যুত হতে হয়।
মমতা: নিজেকে, স্বজন-বন্ধু এবং নিজ সম্প্রদায়কে আমরা সহজেই ভালবাসতে পারি। কিন্তু পর ও শত্রুকে ভালবাসা সহজ নয়। তাই মমতা সাধনার দিক হচ্ছে, এটাকে আত্মকেন্দিক থেকে বহির্দেশে সম্প্রসারিত করা। আপন থেকে পর, বন্ধু থেকে শত্রু পর্যন্ত বিস্তৃত করা।
ন্যায়বিচার: অন্যের বেলায় আমরা সহজেই বিচার চাইতে সক্ষম। কিন্তু বিচারে নিজের, স্বজনদের বা নিজ সম্প্রদায়ের ক্ষতি মেনে নেই কেবল বাধ্য হলেই। একারণে ন্যায়বিচারে সাধনার দিক হচ্ছে, এটাকে বহির্দেশ থেকে নিজের দিকে সম্প্রসারিত করা। ধৈর্য্য ও মমতা ছাড়া ন্যায়বিচার কঠিন। বিচারে নিজের ক্ষতিকে স্বেচ্ছায় মেনে নেয়াটা সততার একটি সূচক।
যত্নশীলতা: যত্নশীলতাই সম্ভবত মানুষের মূল ও সার্বক্ষণিক নৈতিক পেশা। যত্নশীলতার জন্য সৃজনশীল চিন্তা ও সহমর্মীতার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি যত্নশীল কাজই সৃজনশীল কাজের একটি ধারা। অন্যের প্রত্যাশা ও বেদনাকে অনুভব করতে না পারলে যত্নশীল হওয়া কঠিন। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই নিজের উদ্দেশ্য, কেউ অপরের উদ্দেশ্য অর্জনের হাতিয়ার বা উপলক্ষ নন, এই আন্তরিক বিশ্বাস ছাড়া যত্ন যথার্থ হয় না। মমতা ছাড়া যত্নের পথ ধরা যায় না, ধৈর্য্য ছাড়া সে পথে টিকে থাকা যায় না, ন্যায়বিচার ছাড়া যত্নে ভারসাম্য বজায় রাখা যায় না।খবর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।