বিশেষ প্রতিনিধি: সম্প্রতি ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে আলোচনায় রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ। সংগঠনটিকে নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে ইতিবাচক ব্র্যান্ডে যুক্ত করতে চান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই একদিকে চলছে শুদ্ধি অভিযান অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের খোঁজ। সে লক্ষ্যে দেশের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করছেন শুদ্ধি অভিযান।
আগামী ২৩ নভেম্বর সংগঠনটির সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক করে দেয়ায় সবার দৃষ্টি এখন যুবলীগে। রাজনীতি পাড়ার মানুষদের সাথে সাধারণ মানুষদেরও কৌতূহলের শেষ নেই। সংগঠনটির এই ক্রান্তিকালে কারা আসছেন নেতৃত্বে?
আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, যুবলীগ ঢেলে সাজাতে এবার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। আর অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের প্রতিই আস্থাশীল প্রধানমন্ত্রী। এ প্রেক্ষাপটে কয়েকজন তরুণ নেতার নাম উঠে এসেছে আলোচনায়। যারা একাধারে বিশ্বস্ত, প্রতিশ্রুতিশীল ও মেধাবী।
এদিকে, যুবলীগে বয়সের সীমারেখা আরোপের পর বয়ষ্করা নেতৃত্বের দৌড়ে ছিটকে গেলেও আলোচনায় এসেছেন তরুণরা। যারা ভবিষ্যতে সংগঠনটিতে শীর্ষ পদের দাবিদার। নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়সের এই নির্ণায়ককে স্বাগত জানিয়ে তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যুবলীগ তার অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নতুন দিনের সূচনা করবে।
তবে নেতৃত্বের এই দৌড়ে নেতারা দৃষ্টি রাখছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বি সতীর্থদের বয়স কত সেদিকে। অর্থাৎ বয়স এখন যুবলীগের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্ট। পদপ্রত্যাশীরা একে অন্যের কত বয়স- এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিনে তৃণমূলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন কয়েকজন প্রার্থী। যাদের নামে কখনো কোন বদলাম হয়নি।ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ তাদের নাম কোথাও ছিলো না।তারা জাানান দলকে ভালোবাসি। দলের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। যুবলীগের সুনাম ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন তারা। যুবলীগকে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত করবে। যুবলীগকে শুধু যুবদের উন্নয়নে কাজে লাগাবেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সভাপতি পদ প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন যারা:
হারুন অর রশিদ: বর্তমানে যুবলীগের দক্ষিনে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি শুরু তার। পারিবারিক সূত্র আওয়ামীলীগ করে বড় হয়ে উঠেছেন এই যুব নেতা। ১৯৮৭ সালে কলেজ জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে তার পথ চলা শুরু। ১৯৯০ সালে বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগ ( কামরুল – মামুন) কমিটিতে সহ- সভাপতি পদে নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯৮ সালে সাবেক ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সাল অবিভক্ত ডেমরা থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী অগ্নিঝড়া আন্দোলনে দলের ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। দলের দুর্দিনে পুলিশের নির্যাতন ও ৪ বার কারাবরণ করেন।তিনি জানান বর্তমান যুবলীগে এমন নেতৃত্ব আনতে হবে যারা কিনা দেশের জন্য কাজ করতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে দক্ষিনে দায়ীত্ব দেয় তাহলে তা যথাযথ ভাবে পালন করবো। আমার কাছে রাজনীতি মানেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
আলী আকবর বাবুল: ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালে বর্তমান ৪১ নং ওয়ার্ড (সাবেক ৭৭নং ওয়ার্ড) এ আমি যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। অাওয়ামীলীগ এর বিপদে সবসময় ছিলাম সবার আগে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ এ আমি যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিনে সহ- সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তারপর ২০০৯ আবার ও সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করি। এখন যুবলীগের এই দুর্দিনে নেতৃত্ব এসে হারানো ঐতিহ্যকে নতুন ভাবে ফিরে আনার চেষ্টা করব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাধারন ভাবে চলাফেরা যারা করেন তাদেরকে ভালোবাসেন। পেশি শক্তি বলায় দিয়ে ১০০-২০০ মোটর বাইক দিয়ে চলাফেরার করার রাজনীতি শেষ। তাই আমি চাই আমাকে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোন দায়িত্ব দেয় তাহলে তা আমানত হিসবে তার সঠিক ব্যবহার করবো। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবো।