করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা বিশ্বে। এর থেকে রক্ষা পেতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও খুব জরুরি। তাছাড়া এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাবান-পানি দিয়ে ঘনঘন হাত ধুতে পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়াও সন্দেহজনক কিছু স্পর্শ করলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োগ করতেও বলা হয়েছে। করোনার বিস্তাররোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ও নিজেকে নিরাপদ রাখার প্রয়াসে বেশিরভাগ মানুষই অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি এটা সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন? চলুন জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে বিস্তারিত-
হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের সর্বোত্তম পদ্ধতি
হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পূর্বে হাত থেকে যে কোনো আংটি অথবা অলংকার খুলে নিন। হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে পরিষ্কার করে ফেলুন। এরপর আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশিত তিনটি স্টেপ অনুসরণ করুন।
> একটি হাতের তালুতে প্রয়োজনমতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিন।
> এবার দুই হাতের তালুকে পরস্পরে ঘষুন।
> হ্যান্ড স্যানিটাইজার না শুকানো পর্যন্ত হাতের সকল পৃষ্ট ও আঙুল ঘষতে থাকুন। প্রায় ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে কাজটি করা উচিত।
খেয়াল রাখতে হবে যে উভয় হাতের সকল পৃষ্ঠই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংস্পর্শে আসছে। কেবল হাতের তালু ঘষলে হবে না। হাতের পিঠ, আঙুল, আঙুলের অগ্রভাগ, আঙুলের ফাঁক ও নখ কিছুই যেন বাদ না যায়। প্রতি কবজির দুই ইঞ্চি ওপর পর্যন্তও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঘষা উচিত।
যখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন
> ভাইরাস থাকতে পারে এমনকিছু ধরার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি ও ভাইরাসের বিস্তার কমে যাবে।
> হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের সর্বোত্তম সময় হচ্ছে, যখন আপনি বাইরে থাকবেন ও সাবান-পানি থেকে দূরে আছেন।
> গণপরিবহনে চড়লে কেবল মাস্ক ও বিশেষ চশমাই পরবেন না, সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও রাখুন। এ সময় কিছু স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে হাতকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অন্যান্য পাবলিক প্লেসের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।
> হ্যান্ড স্যানিটাইজার মূলত সাবান-পানির অবর্তমানে হাতকে জীবাণুমুক্ত করতে তৈরি করা হয়েছে। তাই যেখানে সাবান-পানির ব্যবস্থা আছে সেখানে বারবার হাত ধুয়ে নিলেই চলবে। তবে কিছু একটা স্পর্শের পর মন খুঁতখুঁত করলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে মনের উদ্বেগ দূর করতে পারেন।
> অফিসের ডেস্কে অথবা অন্যান্য কর্মস্থলে খাবার খাওয়ার আগেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারবেন।
> খাওয়ার আগে প্রোডাক্টটি ব্যবহার করলে হাত ধোয়ার প্রয়োজন নেই, তবে নিশ্চিত হোন যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ভালোভাবে শুকিয়েছে।
> বাইর থেকে এসে ঘরে প্রবেশের আগেও হাতকে জীবাণুমুক্ত করে নেয়া ভালো, এর ফলে ঘরের কিছু ধরলেও হাত থেকে জীবাণু ছড়াবে না।
যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন
সিডিসি ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে এমন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছে। বেশিরভাগ হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৬০% থেকে ৯৫% অ্যালকোহল থাকে, কিন্তু এটা মনে করার কারণ নেই যে অ্যালকোহলের শতাংশ যত বাড়বে এটি তত বেশি কার্যকর হবে। সর্বোচ্চ কার্যকারিতার জন্য এসব প্রোডাক্টে কিছু পানি থাকাও প্রয়োজন। অ্যালকোহলের পরিমাণ ৬০ শতাংশের কম হলে হাতের জীবাণু ধ্বংসে তেমন কার্যকর হবে না।
যখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন না
> ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু নিষ্ক্রিয় বা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা। তাই সাবান-পানি পাওয়া গেলে কখনোই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়।
> হাতে দৃশ্যমান নোংরা অথবা তেল-চর্বি থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অকার্যকর হতে পারে। এক্ষেত্রে সাবান-পানিতে হাত ধুয়ে নেয়াই ভালো।
> হাতে ক্ষত থাকলে সতর্ক হোন। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের অ্যালকোহল ক্ষতস্থানে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই এর পরিবর্তে সাবান-পানিকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।
> হ্যান্ড স্যানিটাইজার পেস্টিসাইডের মতো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দূর করে না, তাই কোনো কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসলে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। খবর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।